চট্টগ্রাম: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ২০২৫-২৬ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। একইসঙ্গে ৬ দফা দাবি আদায়ে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫-২৬ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা নোটিশটি অযৌক্তিক এবং চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী। তারা অবিলম্বে ওই নোটিশ প্রত্যাহারসহ উত্থাপিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
পরে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শুক্রবার রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এফসিপিএস ট্রেইনিং সংক্রান্ত গৃহীত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা।
এছাড়া সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের নবম গ্রেডের সমমানের বেতন দেওয়া এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করে বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়া অবৈধভাবে চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শনিবার (৬ জুন) থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও অ্যাকাডেমিক শাটডাউনের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।