Thursday 04 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভোলায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ জুন ২০২৬ ১৭:৪০

রহস্যজনক মৃত্যু। প্রতীকী ছবি

ভোলা: শহরের একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া আক্তার মিতু (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই আত্নগোপনে গিয়েছেন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তার পরিবারের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভোলা শহরের উকিলপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটের ৫ম তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সুমাইয়া আক্তার ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বশির ও আয়েশা খাতুন দম্পতির বড় মেয়ে। এছাড়া সুমাইয়ার ওয়াকিয়া নামে ৩ বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

সুমাইয়ার পরিবার জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে পার্শ্ববর্তী সৃষ্টিতলা এলাকার বাসিন্দা সামসুদ্দিন ও কোহিনুর বেগমের ছেলে কাচ ব্যবসায়ী সোহাগের সাথে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। এটি তাদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর থেকে স্বামী সোহাগ তার মা কোহিনূর, বোন লিজা ও স্ত্রীকে নিয়ে উকিলপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিয়ের পর থেকে নানা কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিকভাবে সুমাইয়াকে নির্যাতন করতেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয় এবং উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়। সর্বশেষ বুধবার দিবাগত রাতে সুমাইয়া তার বোন মিমের মোবাইল ফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে জানান যে— স্বামী সোহাগ তাকে ফের মারধরসহ অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী সোহাগ তার শ্বশুর বাড়িতে ফোন করে তাদেরকে দ্রুত আসতে বললে তারা এসে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। ঘরের খাটের ওপর সুমাইয়ার মরদেহ পরে আছে। স্বামী সোহাগসহ তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুমাইয়ার বাবা মো. বশির, মা আয়েশা ও চাচাতো ভাই মো. রাহাত অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়ের সুখের জন্য বিয়ের পর জামাতা সোহাগকে ব্যাবসার জন্য অন্তত ২০-৩০ লাখ টাকা দিয়েও মেয়ের সুখ দেখিনি, প্রায়ই নির্যাতন করত। গতরাতে সুমাইয়াকে স্বামী সোহাগ, শাশুড়ি ও ননদ শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিতের পর পালিয়ে গিয়েছে। সোহাগ এবং তার পরিবারের লোকজন মিলে তার প্রথম স্ত্রীকেও একইভাবে মেরেছে, পরে জানতে পেরেছি ‘ এছাড়া তারা সুমাইয়া হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিও জানান।

দুপুর আড়াইটার দিকে এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমাইয়ার মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। তার মরদেহের থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় তার পরিবার এখনও থানায় মামলা করেনি।’ এছাড়া এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর