Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা চলছে: রুমিন ফারহানা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ জুন ২০২৬ ২০:১৬ | আপডেট: ১ জুন ২০২৬ ২২:৩১

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হলেও ২০২১ সালে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সঙ্গীতাঙ্গন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘জেলায় বর্তমানে কোনো সিনেমা হল নেই এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না, যা একটি পরিকল্পিত পরিস্থিতির ফল।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করেছে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং জনতার যুদ্ধ ছিল, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। তাই কেউ যদি গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায়, তার পরিণতি ভালো হবে না।’

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একটি পারিবারিক ও সামাজিক চলচ্চিত্র হওয়া সত্ত্বেও কেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বন্ধ করা হলো। তার ভাষ্য, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, হত্যা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না, সেই রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে ভূমিকা রাখে—এটাই প্রশ্ন।’

এ ছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাজার ভাঙা, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা এবং উগ্রপন্থার উত্থান দেখা যাচ্ছে, যা দেশের ঐতিহ্যের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময়ই সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের দেশ ছিল, যেখানে আযানের সুমধুর ধ্বনির পাশাপাশি বাউল গানও ছিল। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, কারা দেশকে মৌলবাদের দিকে ঠেলে দিতে চায়।’

এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘ্নে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী), সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি ফাহিম মুনতাসিরসহ আরও অনেকেই। বক্তারা সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের নিন্দা জানিয়ে এর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। কর্মসূচি শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর