ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আলোচিত রামিসা হত্যার সঙ্গে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছাড়া অন্যকেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সোয়া ৪টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মে মাসে ডিএমপি কর্তৃক জন নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম, সাফল্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহায় নিরাপত্তা বাস্তবায়ন’ সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা স্বপ্নার কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার মাথা দেখতে পান।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে অপর আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এরপর ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৭ জনকে সাক্ষী রয়েছে। আগামী ৭ জুন (রোববার) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।