Monday 29 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খেলাপি ঋণের চাপ সামলাতে বিশেষ ঋণনীতি ঘোষণা

‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুন ২০২৬ ২০:৪৪

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

ঢাকা: দীর্ঘদিনের উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে এবং নিয়মিত ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনায় সৎ ও নিয়মিত ঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসব ঋণ অনুমোদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ঋণপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে নিয়মিত ঋণগ্রহীতারাও অনেক ক্ষেত্রে নতুন অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে শিল্প, ব্যবসা ও কৃষি খাতে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সীমিত পরিসরে বিশেষ এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখভিত্তিক ঋণ অবস্থান বিবেচনায় ব্যাংকগুলো বিশেষ শর্তে নতুন ঋণ দিতে পারবে।

নীতিমালার প্রধান দিকগুলো হলো—

  • ঋণ প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে গ্রাহকের ঋণযোগ্যতা ও ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
  • গ্রাহকের অন্যান্য ব্যাংকে থাকা ঋণ হিসাবেও নির্ধারিত সীমার বেশি বকেয়া থাকলে নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
  • নতুন ঋণের অর্থ মূলত উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং যথাযথ তদারকি চালাতে হবে।
  • বিশেষ এ সুবিধার আওতায় কৃষি, সিএমএসএমই, শিল্প, ম্যানুফ্যাকচারিংসহ উৎপাদনমুখী খাতকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ নীতিমালা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আলোকে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনীতিতে বিনিয়োগের গতি ধরে রাখা, উৎপাদন সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর স্বার্থেই এ সাময়িক নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এতে ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর