Monday 29 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রতি বর্ষায় শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুন ২০২৬ ২২:০০

গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রতি বর্ষায় অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৮ হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

গাছ রোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরাফাতের ময়দানে এখন অনেক নিমগাছ রয়েছে এবং ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। সম্ভবত ১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরা পালন করতে গিয়ে তৎকালীন সৌদি বাদশাহকে হাজিদের জন্য ছায়াদানকারী গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। সে সময় বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ নিমগাছের চারা পাঠানো হয়েছিল এবং বর্তমানে স্থানীয়রা এসব গাছকে নিমগাছ নয়, ‘জিয়া ট্রি’ নামে চেনে।

বিজ্ঞাপন

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) গাছ রোপণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবুজ রং তার প্রিয় ছিল এবং গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা থেকে শুরু করে মানুষের জীবনে নানাভাবে উপকার করে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যত দিন বাঁচবে, প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করবে। গাছটি বড় হতে থাকলে সেটিকে বন্ধুর মতো মনে হবে। তোমার সঙ্গে সঙ্গে গাছটিও বড় হবে এবং তখন একধরনের বিশেষ ভালো লাগা কাজ করবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের গাছ রোপণে উৎসাহিত করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে না। ছোটবেলায় বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি দেখা যেত, এখন সেই চিত্র আর নেই। প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনে গাছ কাটা হচ্ছে এবং ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ দেশেই আমাদের বসবাস করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের ঘর-পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন না রাখলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে হবে, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর। প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গাছ লাগাতে উৎসাহ দিতে হবে। দেশে গাছের সংখ্যা বাড়লে পরিবেশ আরও শীতল হবে এবং পরিবেশ শীতল হলে মানুষের জীবনযাপনও আরামদায়ক হবে।

এর আগে বিএনসিসি সদস্যদের গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিরক্ষা ধারণার ক্ষেত্রে বিএনসিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই সংগঠনটিকে দেশের দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনসিসির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং অধিকসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে যথাযথ বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে বিএনসিসি তরুণ সমাজের নৈতিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর