ঢাকা: ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এটি দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে এসএমএআরটি (SMART) সুদহার পদ্ধতি চালুর পর ব্যাংকগুলোকে ঋণ ও আমানতের সুদহার বাজারভিত্তিকভাবে নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ৮ মে থেকে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা কার্যকর হলে ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড নির্ধারণের আগের সীমা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংকের ঋণের সুদহার আমানতের সুদহারের তুলনায় তুলনামূলক বেশি হারে বেড়েছে। ফলে ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেডও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্রাহক-স্বার্থ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য অনুকূল নয়। এ পরিস্থিতিতে স্প্রেডের ওপর নতুন করে সীমা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ (কনজ্যুমার ফাইন্যান্স) ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ পর্যন্ত রাখতে পারবে। অর্থাৎ কোনো ব্যাংকের গড় আমানতের সুদহার যদি ৮ শতাংশ হয়, তাহলে ওই ব্যাংক সাধারণ ঋণে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ সুদ নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ সিদ্ধান্তের ফলে ঋণের সুদহারে অযৌক্তিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে, ব্যাংকগুলোর মূল্য নির্ধারণে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং গ্রাহকদের জন্য ঋণ গ্রহণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।