Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০১ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৭

প্রতীকী ছবি

ঢাকা: ঢাকার সাভারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) এক কর্মচারীর সাড়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।

অভিযুক্তের নাম আবদুল বারেক (৬৫)। তিনি পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা দুজনেই কর্মস্থলে থাকায় ঘটনার সময় তাদের সাড়ে সাত বছর ও চার বছর বয়সী দুই মেয়ে বাড়িতে বসে টিভি দেখছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িওয়ালা আবদুল বারেক ঘরে ঢুকে ছোট মেয়েটিকে ১০ টাকা দিয়ে চকলেট কিনতে বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর দরজা বন্ধ করে বড় মেয়েটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান।

বিজ্ঞাপন

আরও জানা যায়, রাত ৮টার দিকে শিশুটির মা কাজ থেকে ফিরে দেখেন মেয়ে কান্নাকাটি করছে। মাকে দেখে শিশুটি জড়িয়ে ধরে ঘটনার বর্ণনা দেয়। এ সময় তার কাপড়ে রক্তের দাগও দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে বাড়িওয়ালা ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আবদুল বারেক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে ভুক্তভোগীর বাবার পা ধরে ক্ষমা চান।

ভুক্তভোগীর বাবা অভিযুক্তকে ঘরে আটকে রেখে পরিচিতদের ডাকতে গেলে বারেকের স্ত্রী কৌশলে ছিটকিনি খুলে দিলে তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে অভিযুক্তের দুই মেয়ে ভুক্তভোগীর মাকে হুমকি-ধামকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের সহযোগিতায় সাভার থানার বিরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত আবদুল বারেক ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সাভার থানার বিরুলিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং থানায় মামলা দিতে বলা হয়েছে। আবদুল বারেককে ধরতে দুইবার অভিযান চালানো হয়েছে। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে।’

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মুহাম্মদ আল্লায়ার বলেন, ‘এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড যারা করে, তাদের আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এটি ইউনিভার্সিটি প্রক্টর অফিস মনে করে। সে প্রক্রিয়ায় এই মামলা থেকে শুরু করে সব ধরনের কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগীর বাবার পাশে প্রক্টর অফিস রয়েছে এবং কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু শিশুটির বাবা আমাদের ইউনিভার্সিটির একজন কর্মচারী, সেহেতু এটার প্রতি আমাদের আরও বেশি দায়বদ্ধতা আছে। তবে শুধু ভিক্টিমের বাবা আমাদের ইউনিভার্সিটির বলে নয়, পৃথিবীর যেকোনো জায়গায়, বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনিও এ বিষয় নিয়ে সোচ্চার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ঘটনার যথাযথ বিচারের দাবিতে একসঙ্গে কাজ করে যাব।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর