Sunday 09 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আজকের দিনটি বইপ্রেমীদের জন্য ‘বইপ্রেমী দিবস’

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১১

কাগজের পাতার ঘ্রাণে কেমন যেন এক রহস্যময় জাদু লুকিয়ে থাকে। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে যখন প্রথম পাতাটা উল্টানো হয়, ঠিক সেই মুহূর্তে চারপাশের সব গোলমাল এক জাদুকরী মন্ত্রে বিলীন হয়ে যায়। মানুষ তখন নিজের ঘরের কোণে বসে থাকলেও মনটা কিন্তু সাঁতরে বেড়ায় পৃথিবীর অন্য কোনো অচেনা প্রান্তের রহস্যময় গলিতে, কিংবা অন্য কোনো যুগে। পৃথিবীর যাবতীয় ব্যস্ততা, কোলাহল আর মানসিক ক্লান্তি থেকে এক লহমায় মুক্তি পাওয়ার এর চেয়ে সহজ পথ আর একটিও নেই। যারা একবার বইয়ের এই জাদুমন্ত্রে বন্দী হতে পেরেছেন, তারা খুব ভালো করেই জানেন যে নিঃসঙ্গতার সেরা প্রতিষেধক আসলে কী। একখানা ভালো উপন্যাস মনের গহীনে এমন এক নীরব সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, যে কখনো ছেড়ে যায় না, কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই মনকে এক অনন্য তৃপ্তিতে ভরিয়ে রাখে। আর সেই বইপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি। যা বইপ্রেমী দিবস (Book lovers day) হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

মস্তিষ্কের খেলায় দারুণ ইতিবাচক অনুভূতির জোয়ার

বই পড়ার অভ্যাস কেবল কোনো বিনোদনের বিষয় নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের এক চমৎকার খেলা। যখনই কোনো পাঠক শব্দের পর শব্দ ধরে কাহিনীর গভীরে ডুব দেন, ঠিক তখনই মস্তিষ্কের ভেতরের কোষগুলো নতুন এক কর্মচাঞ্চল্যে জেগে ওঠে। এতে করে মানুষের চিন্তা করার শক্তি যেমন বহুগুণ বাড়ে, তেমনই জীবনের নানা জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বেশ মজবুত হয়। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষের মাথার ভেতরের মানসিক চাপ এক নিমেষেই অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কেবল তা-ই নয়, যারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটু বইয়ের পাতায় চোখ বোলান, তাদের মন গভীর প্রশান্তিতে ভরে ওঠে এবং ঘুমও হয় ভীষণ চমৎকার। শরীর সতেজ রাখতে যেমন পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন, তেমনই মন ও বুদ্ধি তাজা রাখতে চাই ভালো সাহিত্যের স্পর্শ।

ডিজিটাল পর্দাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাগজের ঘ্রাণ

আজকের বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল পর্দার ছড়াছড়ি আর প্রযুক্তির হাতছানি হলেও খাঁটি বইয়ের আবেদন কিন্তু বিন্দুমাত্র কমেনি। মুঠোফোনের আলো কিংবা কম্পিউটারের যন্ত্রনির্ভর ছাঁচ কখনোই হাতের ওপর রাখা নরম কাগজের ছোঁয়া আর নতুন ছাপানো হরফের সুবাসকে টেক্কা দিতে পারে না। কাগজের ওপর আঙুল বুলিয়ে পাতা ওল্টানোর যে এক অপার অনুভূতি, তার কোনো বিকল্প আধুনিক প্রযুক্তি আজও তৈরি করতে পারেনি। মানুষ বহু শত বছর ধরে নিজের জ্ঞান, ইতিহাস আর শিল্পকে সযত্নে তুলে রেখেছে এই বাঁধাই করা পাতাগুলোর ভেতরেই। যুগে যুগে সভ্যতা বদলে গেছে, নানা উদ্ভাবন এসেছে, কিন্তু মনের ভেতরের প্রকৃত শান্তি আর নতুন কিছু জানার আসল আকুলতা কেবল ওই কাগজের সুবাসেই খুঁজে পেয়েছেন সর্বকালের সাহিত্য রসিকরা।

পড়ুয়াদের নিজস্ব এক সর্বজনীন আনন্দের বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে বইয়ের প্রতি মানুষের এই অগাধ প্রেম আর গভীর অনুরাগকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর আগস্ট মাসের নয় তারিখে উদ্যাপিত হয় বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস। আজকের এই কর্মব্যস্ত দিনে মানুষকে প্রযুক্তি আর নাগরিক কোলাহল থেকে একটু আলাদা করে বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনাই এই আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য। সমাজের তথাকথিত জটিল নিয়মকানুন আর জীবনের প্রতিদিনের টানাপোড়েন ভুলে গিয়ে সবাই যেন নিজের পছন্দের একটি বই নিয়ে সুন্দর কিছু সময় কাটায়, সেটাই তো এই উদযাপনের মূল বার্তা। এটি কেবল একটি বিশেষ তারিখের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মনের ভেতরের সুন্দর ভাবনাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব বিপ্লব। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি পড়া পাগল মানুষ এই দিনে নিজেদের প্রিয় বইগুলোর গল্প ভাগ করে নেন একে অপরের সাথে।

শব্দের স্রোতে আজ হারিয়ে যাওয়ার আহ্বান

জীবনের দিনগুলো তো গতির পেছনে ছুটতে ছুটতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দিনশেষে সেই মানুষটাই সবচেয়ে সমৃদ্ধ যার ভেতরের জগতটা বৈচিত্র্যময় কল্পনায় ভরা। আপনার ঘরের এক কোণে জমে থাকা প্রিয় বইটি হয়তো নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে কেবল আপনার একটু ছোঁয়ার জন্য, আপনাকে এক রূপকথার জগতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আজকের এই বিশেষ মুহূর্তে তাই সব জঞ্জাল আর যান্ত্রিক চিন্তাকে একপাশে সরিয়ে রেখে হাতে তুলে নিন ধুলো জমে থাকা সেই কাঙ্ক্ষিত উপন্যাস কিংবা সাহিত্যের পৃষ্ঠা। কারণ বইয়ের পাতার ওই নীরব শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে রঙিন আলো, যা আপনার ক্লান্ত মনকে এক লহমায় এক অচেনা নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর