চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট এবার পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাতিল করা হয়েছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনও। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ইনস্টিটিউট বন্ধ থাকায় বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্বল্প পরিসরে পহেলা বৈশাখ পালন ও মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করার চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সুফিয়া বেগম সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ইনস্টিটিউট বন্ধ আছে। বন্ধ প্রতিষ্ঠানে আমরা কিভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করব? বর্ষবরণ, মঙ্গল শোভাযাত্রা এসব আয়োজনের জন্য তো প্রস্তুতির দরকার আছে। সেটা কি আমরা নিতে পারছি? চারুকলার পক্ষ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা না হলেও আমরা ক্যাম্পাসে বর্ষবরণের মূল আয়োজনে অংশ নেব।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মূল ক্যাম্পাসে প্রতিবছরের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে চারুকলা ইনস্টিটিউটে এবার আলাদা কোনো আয়োজন থাকছে না।
১৯৮৪ সাল থেকে চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যার দায়িত্বে থাকেন চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। চার দশকের মধ্যে ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বর্ষবরণের আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ২০২২ সালে বর্ষবরণের আয়োজন শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ দিতে গড়িমসি করায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের বর্ষবরণের আয়োজনের অগ্রভাগে থাকেন স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা। পহেলা বৈশাখ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন বাতিল করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারা।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তর বর্ষের শিক্ষার্থী জহির রায়হান অভি সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। প্রায় ৪০ বছর ধরে চারুকলা ইনস্টিটিউটে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হচ্ছে। হুট করে বন্ধ করে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারি না। আমাদের মাস্টার্সে দুই ব্যাচ আছে। দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আজ আমরা বসেছিলাম। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা ইনস্টিটিউটের বাইরে স্বল্প পরিসরে বর্ষবরণের আয়োজন করব।’
প্রতিবছরের মতো এবারও বাঁশ-কাঠ দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর কয়েকটি প্রতিকৃতি এবং রঙের আলপনায় বর্ণিল মুখোশ-ফেস্টুন বানিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করারও চেষ্টা চলছে বলে জহির রায়হান জানিয়েছেন।
১৯৬৯ সালে শিল্পী রশিদ চৌধুরীর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধীনে ‘সহায়ক’ বিষয় হিসেবে শিল্পকলা বিষয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে চারুকলা শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে রশিদ চৌধুরীকে বিভাগীয় প্রধান নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে এই বিভাগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০১০ সালের ২ আগস্ট চারুকলা বিভাগ এবং নগরীর বাদশা মিয়া সড়কের সরকারি চারুকলা কলেজকে একীভূত করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এক দশক পর ২০২২ সালের শেষ দিকে ঝুঁকিমুক্ত ক্লাসরুম, ভবন ও ছাত্রাবাস নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস, ডাইনিং ও ক্যান্টিন চালুসহ ২২ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। ৩ নভেম্বর থেকে তারা চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। অব্যাহত আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে চারুকলা ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।