ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় কার্যালয় ও ক্লাবে রূপান্তর করেছে বিএনপি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিগত ছয় মাসের সার্বিক ব্যর্থতার নানা চিত্র তুলে ধরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, গত ছয় মাসের ব্যবধানে দেশের উনিশ থেকে বিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় মতাদর্শের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এগারোটি সিটি করপোরেশন এবং ৬৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দলীয় লোকজনকে বসানো হয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিত ও নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি খাতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দেয় এবং রেকর্ড পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন, সেচ ও সারসহ অর্থনীতির প্রতিটি খাতে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদার প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ ঘাটতি চলছে। এর ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির চুলা জ্বলছে না এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো ক্রয়াদেশ রক্ষা করতে পারছে না। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় তা বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র লোডশেডিং, ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল এবং ক্যাপাসিটি চার্জের বেড়াজাল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সুপারিশগুলোও বর্তমান সরকার আমলে নিচ্ছে না। যেকোনো সংকট তৈরি হলেই তার দায় বিগত অন্তর্বর্তী কিংবা ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতা চলছে। অথচ বর্তমান সরকারের পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি প্রতিকূল ও খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন।’
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছে না এবং চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দেশজুড়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার কারণে মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় আগের সরকারের ওপর চাপানো হচ্ছে, অথচ আজও স্বাস্থ্য খাতের সংকট কাটেনি এবং কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। শিক্ষাঙ্গনগুলোতে দলীয় দখলদারিত্ব চলছে এবং বিরোধী মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার হচ্ছে না। গত ছয় মাসে দেশে আট শতাধিক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যার বড় একটি অংশ ক্ষমতাসীন দলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। সরকারের গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।’