ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী শহিদ ফারুক সড়কে এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যরাসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তারা জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যমের সংস্কার হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারকে একটি প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতক সরকার বলা যায়, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হাজারো শহিদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পরও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি।’
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সেবা খাতের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে কেউ সঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারছে না। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বর্তমান বিএনপি সরকার লোডশেডিংয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নেই। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের ইতিহাস সবার জানা থাকলেও, বর্তমান সরকার আসার পর স্বল্প সময়ে জ্বালানি সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন ও সংস্কারের বদলে মাফিয়া ও ব্যবসায়ীদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে, যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা নির্বাচন করেছিল।’
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে দুর্নীতি বা লুটপাট করার জন্য নয়। সন্তানরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দরপত্র নিয়ে বাণিজ্য করবে আর স্বজনপ্রীতি চলবে, তা জনগণ মেনে নেবে না। নির্বাচিত সরকার আসার পর থেকে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং স্থানে স্থানে নানা বিতর্কিত কমিটি তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনে পরাজিতদের প্রশাসক বানানো হচ্ছে এবং সারাদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টিসহ মারধরের ঘটনা ঘটছে।’
প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরে তিনি পরিকল্পনা থাকার কথা বললেও পাঁচ মাসে তার প্রতিফলন জনগণ দেখেছে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী ছিল গণঅভ্যুত্থানের প্রধান কেন্দ্রস্থল। সেখানে এখনও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চরম সংকট চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেসব কাজ হয়েছিল, বিচার প্রক্রিয়া সেখানেই থেমে আছে এবং বর্তমান সরকার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা না হলে নগরবাসীসহ সাধারণ মানুষ এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে এবং আগামীতে নতুন আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় করা হবে।’