রংপুর: নগরীর তাজহাট আনছারীর মোড় এলাকায় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানকে (৬৫) হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে গ্যারেজ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই রহস্য উদঘাটন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাহিগঞ্জ এলাকা থেকে দুলাল মিয়াকে (৪৫), শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থেকে ফিরোজা বেগম (৫৫) ও রেজাউল ইসলামকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে গ্যারেজের শাটারের বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা সন্দেহ করেন। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে তারা শাটারের ছিদ্র দিয়ে উঁকি দেন এবং মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে তালা কেটে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এসময় ঘটনাস্থলে গ্যারেজের ভেতরের একটি আলমারি ও ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিশেষ করে টাকা-পয়সা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার অংশটিই ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিয়ে, তালাক ও আর্থিক লেনদেনের এক জটিল বিষয় বেরিয়ে আসে। প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান এবং অন্যদিকে আব্দুর রহমানের স্ত্রী প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। এ সুযোগে দুলাল মিয়া, যিনি আব্দুর রহমানের কাছ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন, ফিরোজা বেগমের সঙ্গে আব্দুর রহমানের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়ের সময় ফিরোজাকে দুটি অটোরিকশা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং দুলাল এতে আর্থিক সুবিধা নেন।
কিন্তু বিয়ের মাত্র পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই আব্দুর রহমান ও ফিরোজার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ফিরোজা অভিযোগ করেন, আব্দুর রহমান তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন। ঘটনার প্রায় সাত দিন আগে দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের তালাক হয়। আর্থিক জটিলতা আরও গভীর হয় যখন দুলাল ফিরোজার কাবিনের ৫০ হাজার টাকা নিজের কাছে রাখেন এবং ঘটনার আগের দিন অটোরিকশা উদ্ধারের অজুহাতে ফিরোজার কাছে আরও চার হাজার টাকা দাবি করেন। ফিরোজা টাকা দিতে না পারলেও একটি অটোরিকশা দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে দুলাল ও ফিরোজার সঙ্গে রেজাউল ইসলাম যোগ দেন এবং তারা মিলে আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নুরুন্নবী বাদী হয়ে তাজহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতার তিনজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাজহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে তোলা হবে এবং আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে।