ঢাকা: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি অনুরোধ করব, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ায়। এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না। যদি এই মেয়ের বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় এবং রায় কার্যকর না করা হয়। হাশরের দিন আমরা সবাই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব। আমরা সেই আসামি হতে চাই না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৯ মে রামিসা হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেদিন দিবাগত রাতেই আমি হজের সফর শুরু করি। ওই সময়ই খবর পাই যে, এ ধরনের একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। আমার সহকর্মীদের অনুরোধ করেলিাম যে, আমরা সবাই সেখানে যাব, তাদের সান্ত্বনা দেব এবং তাদের কষ্টের অংশীদার হব।’
তিনি বলেন, ‘পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের প্রিয় সংগঠন সোচ্চার প্রতিবাদ মিছিল, মিটিং করেছে ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। এই নরপশুর বিচার সম্পন্ন হওয়ার পরে শাস্তি বাস্তবায়নে কার্যকর করার দাবিতে আমরা কর্মসূচি পালন করেছি।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট- যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। যারা এভাবে আত্মস্বীকৃত, ধর্ষণকারী ও হত্যাকারী এদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই হলো এদের সহযোগিতা করা, অন্যায়ের পক্ষ নেয়া, দুস্কৃতিকারীর পক্ষ নেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না। কিন্তু হয়েই চলছে, বন্ধ হচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো- বিচারের নামে অবিচার, বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশা। এসব কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনেই শুধু রামিসার জন্য না, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রামিসার মা-বাবা দু’জনেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দু’জনকে আল্লাহ সুস্থতার নেয়ামত এনায়েত করুন। আর রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন।’ এ ঘটনায় ব্যথিত হয়ে ধর্ষক খুনির প্রতি ধিক্কার ও নিন্দা জ্ঞাপনকারীদের ধন্যবাদ জানান জামায়াত আমির।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কর্নেল আবদুল বাতেন এমপিসহ ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতারা।
উল্লেখ্য, সোমবার (১ জুন) বিকেলে জামায়াত আমির পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন।