Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা হত্যা মামলা / সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, আদালতে জবানবন্দি দিলেন বাবা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ জুন ২০২৬ ১১:২১ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ১২:৫১

রামিসা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আদালতে আনা হচ্ছে।

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদেরও পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য নেওয়া হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী।

বিজ্ঞাপন

এদিন সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে সোমবার (১ জুন) আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে দ্রুত বিচারের স্বার্থে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্ত স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পরদিন, ২০ মে, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বহুল আলোচিত এ মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।