দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোর বিতর্কিত নিয়োগের ঘটনায় দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এই আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের পেছনে রয়েছে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যর্থতা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিউল থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত চিয়নানে কেএফএর প্রধান কার্যালয় এবং মধ্যাঞ্চলীয় সিউলে অবস্থিত কেএফএ হাউসে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কর্তাব্যক্তিরা অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন কি না, মূলত সেই প্রমাণ খুঁজতেই এ অভিযান চালানো হয়।
হং মিয়ুং-বোর নিয়োগের পরপরই পুলিশের তদন্ত শুরু হলেও দীর্ঘ প্রায় দুই বছর তা থমকে ছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া দলের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর জনগণের ক্ষোভের মুখে এই তদন্ত নতুন মাত্রা পায়। অবশ্য হং মিয়ুং-বো এবং কেএফএ সভাপতি চুং মং-গিউ—দুজনই বিশ্বকাপ শেষে পদত্যাগ করেন। গত জুলাইয়ে সিউলে জাতীয় পরিষদের এক সংসদীয় শুনানিতেও হাজির হয়েছিলেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, হং মিয়ুং-বোর বাড়ির কাছের একটি বেকারিতে গিয়ে তাকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কেএফএর সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর লি লিম-সায়েং। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল যে, লি-র সঙ্গে হং-এর সেই আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। কেএফএ নিজেদের নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ ছিল। তবে মন্ত্রণালয় সে সময় কোনো অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পায়নি।
২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দক্ষিণ কোরিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন এই হং মিয়ুং-বো। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পুলিশ হং-কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর আগে সংসদীয় শুনানিতে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে হং মিয়ুং-বো বলেছিলেন, ‘যখন আমি প্রস্তাবটি পেয়েছিলাম, তখন ভেবেছিলাম তারা সমস্ত সঠিক নিয়ম অনুসরণ করেছে। মানুষ হয়তো ভাবতে পারে যে সবকিছু অতটা স্বচ্ছ ছিল না, তবে আমি কখনোই কোনো বিশেষ সুবিধার জন্য অনুরোধ করিনি।’