ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু আল-কুবরুন নাহার কসমিকের বিরুদ্ধে ফ্লাইটে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য বহনের অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা বিভাগের একটি তালিকা এবং ফ্লাইট সার্ভিসেস বিভাগের জারি করা একটি শোকজ নোটিশে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা কসমিকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে চাকরি জীবনে তিনি ১৮ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন কসমিক।
গত ২৪ জুন রোম-ঢাকা (FCC-DAC) বিজি-৩৫৬ ফ্লাইটে কর্তব্যরত ছিলেন কেবিন ক্রু আল-কুবরুন নাহার কসমিক। নিরাপত্তা বিভাগের তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মালামালের রয়েছে- একটি আইফোন-১৭, সাড়ে চার কেজি আইরিশ স্প্রিং সাবান, ৫০০ গ্রাম জেমিসন কোলাজেন গামি, কিন্ডার ব্রিটানিয়া কেক, আর্থ ওয়াফার্স, ব্ল্যাক প্লাম ফ্রুটস, দেড় কেজি বডি ওয়াশ নুটেলা, মধু, ডেল মন্টে আমের জুস, ফেব্রিকা অরেঞ্জ, কোকাকোলা, সেভেন আপ, কিন্ডার ডিলাইট, ডাভ শ্যাম্পু ইত্যাদি। এসবের মোট ওজন ১৭ কেজি ৭ গ্রাম।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর ২ জুলাই বিমানের ফ্লাইট সার্ভিসেস বিভাগ থেকে উপ-মহাব্যবস্থাপক ফারহানা আক্তারের সই করা একটি চিঠি আল-কুবরুন নাহার কসমিককে দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২৪ জুন বিজি-৩৫৬/FCO-DAC- সেক্টরে অপারেটিং কেবিন ক্রু হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমানের নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক আপনার ব্যাগেজ তল্লাশি করে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত কসমেটিকসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি পান, যা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনার এই অপেশাদারিত্বমূলক কর্মকাণ্ড বিমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, যা বিমান চাকরি বিধি পরিপন্থী। এই অবস্থায়, আপনার এই কর্মকাণ্ডের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা বিভাগের এ ধরনের তল্লাশি ও শোকজ নোটিশ ক্রু সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্যিক পণ্য বহন রোধে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
আল-কুবরুন নাহার কসমিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে? জানতে চাইলে বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মেজর ফারহান তানভীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘রিপোর্ট দেওয়ার কাজ আমার; সেই কাজটি আমি করেছি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটি আমি বলতে পারছি না। তবে আমরা ফ্লাইট রেগুলার চেক করি। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অতিরিক্ত মালামাল এনেছিলেন।’
এর আগে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য থেকে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফেরার আগেই ওই ফ্লাইট থেকে কেবিন ক্রু আল কুবরুন নাহার কসমিককে সরিয়ে দিয়েছিল বিমান কর্তৃপক্ষ। সেসময় নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসে, আল কুবরুন নাহার কসমিক নিয়মিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ফ্লাইট পরিচালনা করতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সরকারি সুবিধা ভোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।