ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর ১২ নম্বরে অপহরণের উদ্দেশ্যে কাজী মোহাম্মদ গুলজার (২৯) নামের এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লবী থানার বিরুদ্ধে। এমনকি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও থানা থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে দায়িত্বরত কর্মকতাদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত ১৯ জুন মিরপুর-১২ এর গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল থেকে রাত ১১টার দিকে কাজী মোহাম্মদ গুলজার একটি অনুষ্ঠান শেষে নিচে নামলে পূর্ব পরিচিত সাত জনসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জন তাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে মারধর করে। এ সময় তার ক্যামরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হলে লোকজনের উপস্থিতিতে পরে আর সেটি সম্ভব হয়নি। এমনকি ভুক্তভোগী গুলজারকে জোরপূর্বক তাদের মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গুলজার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন।
তবে এই মারধরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থানায় দেওয়া হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ বা মামলা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্তরা হলেন- রাব্বী হোসেন মুন্না (৩২), শিমুল হোসেন (২৮), রাকিবুল হাসান শান্ত (২৮), নাঈম আলম (২৮), মো. জাহিদ হাসান (২৮), হাসেমুল হক উদয় (২৭) ও আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩০)। এ ছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গুলজার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি ফটোগ্রাফার এবং সিনেমাটোগ্রাফারের ব্যবসা করি। রাব্বী হোসেন মুন্না ও শিমুল হোসেন আমার ব্যবসায়িক পার্টনার ছিল। গত ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি আদাবরে তাদের সঙ্গে ব্যবসার পার্টনারশিপ ও টাকা-পয়সা নিয়ে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং মারধর করে। পরে আর যাতে ঝামেলা না হয় সেই কারণে আমরা ব্যবসার পার্টনারশিপ বিলুপ্ত করি। হিসাব নিকাশ করে আমরা আলাদা হয়ে যাই এবং এরপর থেকে আমি আলাদাভাবে একা ব্যবসা করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৯ জুন রাতে পল্লবীর সেকশন-১২ এর প্রিন্স বাজারের ৪র্থ তলায় বিবাহের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আমার প্রোগ্রাম থাকায় আমি ভিডিও গ্রাফি প্রোগ্রাম করার জন্য আসি। রাত ১১টার দিকে প্রোগ্রাম শেষ করে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে নিচে নামলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তারা পাঁচটি মোটরসাইকেল যোগে এসে আমার ওপর অর্তকিতভাবে হামলা করে। তারা আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় তারা আমার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাসহ আনুষাঙ্গিক সাত লাখ টাকার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেই সঙ্গে আমাকে জোরপূর্বক তাদের মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে।’
গুলজার বলেন, ‘পরে আমার ভাই তাহেরকে ফোন করে জানালে সে আমাকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে। তখন তারা আমার ভাইকেও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। আমার ভাই পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পল্লবী থানা পুলিশ আমাদের থানায় নিয়ে আসে।’
মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে গুলজারের বড় ভাই তাহের সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার মারধরের সিসিটিভি’র ফুটেজ থানায় দিয়েছি। কিন্তু থানা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা মামলা করতে চাইলে তারা মামলা নেয় না। ওসি অভিযুক্তদের সঙ্গে আমাদের আপস করতে বলেন। কিন্তু এ ঘটনা আপস করার মত না। ওসি ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আমাদের উপরই দোষারোপের চেষ্টা করছেন। আমি সঠিক বিচার চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘থানা মামলা না নেওয়ায় আমরা কোর্টে আবেদন করেছি। থানা মামলা না নিলে অসহায় ভুক্তভোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়। কোর্টে আইনজীবী ধরে মামলা করতে গিয়ে ভুক্তভোগীরা আর্থিকভাবেও ক্ষতির শিকার হন।’
এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান বাসির সারাবাংলাকে বলেন, ‘মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়া হয় না। আর তাকে মারপিটের ঘটনা হলো ৩২৩ ধারা। ৩২৩ ধারায় মামলা হয় না, প্রসিকিউশন হয়। মামলা কোর্টে করতে হয়। আর আমি তাদের আপস করার বিষয়ে কিছু বলিনি। তাদের সবার সঙ্গে একবার বসেছিলাম। আবারও বসা হবে।’