Tuesday 21 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নগরবাসী সচেতন না হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়: চসিক মেয়র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৭

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে জোরদার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’র আওতায় নগরীর বাকলিয়া এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার ও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করেন এবং নিজ হাতে নালা থেকে ময়লা উত্তোলন করে কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত বছর আমরা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ। এ কাজে বিভিন্ন সেবা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে। এবারও একইভাবে সম্মিলিত উদ্যোগে কাজ চলছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘নগরীর অধিকাংশ নালা-খাল এখনো ময়লায় ভরে যাচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার পরও অনেকে যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলছেন। গত তিন দিন ধরে আমি নিজেই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখছি—নালার ভেতরে কী পরিমাণ ময়লা জমে আছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নগরবাসীকেই দায়িত্বশীল হতে হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ বাকলিয়া, পশ্চিম বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও মুহুরা-সহ নিচু এলাকাগুলোতে যাতে মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই, কেউ যেন পানিবন্দি না থাকে।’

নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শহরকে ভালোবাসতে হবে। যতক্ষণ না আমরা নিজের দায়িত্ববোধ থেকে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেব, ততক্ষণ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মেয়র রাস্তায় নেমে কাজ করলে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

নালা-খালে ময়লা ফেলা এবং অবৈধভাবে দখল বা সংকুচিত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মেয়র বলেন, ‘যারা নালা-খালে ময়লা ফেলবে বা অবৈধভাবে দখল করে ড্রেন সংকুচিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।’

তিনি জানান, চসিক ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ডাস্টবিন সরবরাহ করেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে বা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়র দোকানদারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের দোকানের সামনে যেন কেউ ময়লা ফেলে বা হকার বসে পরিবেশ নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমজুড়ে এ ধরনের নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে জলাবদ্ধতা কমিয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করা যায়।

সারাবাংলা/এসএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর