Monday 10 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা ২ শিশু ঢামেকে, দায়িত্ব নিল সরকার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ আগস্ট ২০২৬ ২২:২৪

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া জোড়ালাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা দুই শিশু জয়নব-উম্মে কুলসুমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে শিশু দু’টিকে পৃথক করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (১০আগস্ট) রাতে জোড়া শিশুকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় শিশুদের পরবর্তী চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে শিশু দু’টির খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। টাকার অভাবে তারা চিকিৎসা নিতে পারছে না। এর পরই প্রধানমন্ত্রী আমাকে বিষয়টি দেখতে বলেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন। তখন গ্রামে থাকা শিশু দু’টির বাবার সঙ্গে আমি নিজেই কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসি।’

বিজ্ঞাপন

সরদার সাখাওয়াত বলেন, ‘শিশু দু’টিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অস্ত্রোপচার করাসহ যাবতীয় চিকিৎসার খরচ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হবে।’

শিশু দু’টির শারীরিক জটিলতা নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সদরুদ্দিন আল মাসুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজ রাতেই জোড়া লাগানো শিশু দু’টি হাসপাতালে এসেছে। তাদের কেবিনে ভর্তি রাখা হয়েছে। শিশু দু’টির বুক ও পেট জোড়া লাগানো। প্রথম জটিলতা হচ্ছে- তাদের দুজনের হার্ট একটি। এ জন্য তারা খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছে। মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাদের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দিলগাতুয়া গ্রামের নাহিদ হাসান ও সানজিদা ইয়াসমিন মুক্তা দম্পতির সন্তান এরা। এর আগে নোমান নামে দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে তাদের। নাহিদ হাসান গ্রামে একটি দোকানে ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন।

নাহিদ হাসান জানান, গর্ভকালীন ৫ মাসের সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন, জোড়া বাচ্চার বিষয়টি। এরপর ৮ মাসের সময় চিকিৎসকরা তাদের জানান, বাচ্চা দু’টি একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো। পরে ৩ মাস ৭ দিন আগে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয় শিশু দু’টির। জন্মের চার দিন পর নবজাতকদের নিয়ে গ্রামে চলে যান তারা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিশু দু’টির চিকিৎসা ও পৃথক করার কোনো রাস্তা দেখছিলেন না পরিবারটি। তখনই সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে বিষয়টি।

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর