বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশার পাশাপাশি প্রশ্নও কম নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের অভাব, দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে অনিয়মিত পারফরম্যান্স এবং নতুন কোচের অধীনে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে ফুটবলবিশ্বে। তবে দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের বিশ্বাস, এই সন্দেহই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অ্যালিসন বলেন, ‘দলকে ঘিরে কিছু সন্দেহ থাকা ভালো ব্যাপার। অতীতেও এমন হয়েছে। অনেক সময় ব্রাজিলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করা হয়নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই বিশ্বকাপ জিতেছে।’
ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা আসে ২০০২ সালে। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বসেরার মুকুট ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সেলেসাওরা। এবারের আসরেও সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের আলোচনায় আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ফলে তুলনামূলকভাবে চাপের বাইরে থেকেই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল।
অ্যালিসনের মতে, বর্তমান ব্রাজিল দল অতীতের দলগুলোর চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘এই দলের বৈশিষ্ট্য আগের দলগুলোর চেয়ে আলাদা। গত কিছু সময় খেলোয়াড়দের জন্য নানা কারণে কঠিন ছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এখন আমরা কেমন অনুভব করছি। আমরা আশা করছি, সেটি মরক্কোর বিপক্ষে ভালো ফল এনে দেবে।’
বাংলাদেশ সময় রোববার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা দুই দলের এই লড়াইকে গ্রুপপর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গ্রুপপর্বে মরক্কোর পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে চাইছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলে না। ১৯৯৪ সালের পর থেকে দলটি বেশ কয়েকবার শিরোপার দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শেষ পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারবারই কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে নিজেদের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয় এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়।
৩৩ বছর বয়সী অ্যালিসনের জন্য এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন ব্রাজিলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক। তবে দুই আসরেই যথাক্রমে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল দলকে।
তবুও অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে ভাবতে নারাজ এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। তার ভাষায়, ‘ফুটবলে অতীতের হতাশা নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। যা হয়েছে, তা হয়ে গেছে।’
একই সঙ্গে তিনি কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। অ্যালিসনের ভাষায়, ‘আনচেলত্তি আসার পর দলের পরিবেশ পুরো বদলে গেছে। তার উপস্থিতি খুবই শক্তিশালী। তিনি বিতর্ক নয়, ফুটবল নিয়েই কাজ করেন।’