ঢাকা: ঢাকার কেরানীগঞ্জে ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার প্রধান ফটোসাংবাদিক মুঈদ খন্দকারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা ও তিতাস গ্যাস কোম্পানির ঠিকাদার আবু হানিফ ওরফে কানা হানিফ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। গত ৪ আগস্ট দায়ের করা ওই জিডির নম্বর ২৫৯।
অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সাংবাদিক শাহাদাত হোসেনের ওপর হামলার মামলায় সাক্ষী হওয়ায় মুঈদ খন্দকারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ২৬ জুন কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় শাহাদাত হোসেনের ওপর যুবলীগ নেতা জুয়েল হাওলাদার ও আবু হানিফের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় শাহাদাত হোসেন, তার স্ত্রী ও ৮ বছরের মেয়ে আহত হন।
খবর পেয়ে মুঈদ খন্দকার আহত সহকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই ঘটনায় শাহাদাত হোসেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আবু হানিফ, জুয়েল হাওলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা করেন। সেই মামলার সাক্ষী হওয়ায় মুঈদ খন্দকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই আরশিনগর বাড়ির মালিক সমিতির কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আবু হানিফ ও জুয়েল হাওলাদারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি মুঈদ খন্দকারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মামলায় সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এরপর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুঈদ খন্দকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমকর্মী। স্থানীয় স্থানীয় সন্ত্রাসী আবু হানিফ ওরফে কানা হানিফ ও জুয়েল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে আমাদের হয়রানি ও হামলার চেষ্টা করছে। বারবার স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহায়তায় আমরা উদ্ধার হই। সহকর্মী শাহাদাত হোসেনের ওপর হামলার মামলায় সাক্ষী হওয়ায় এখন আমাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি থানায় জিডি করেছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে চাঁদা দাবি করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার সালিশ ও হস্তক্ষেপ করলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এদিকে আবু হানিফ ওরফে কানা হানিফের বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, জিডির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।