রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক, লেখক ও জনবুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে হত্যার হুমকি, কটূক্তি ও সাইবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার ইনবক্স ভরে গেছে হত্যার হুমকিতে, গালাগালি আর অশ্লীল বার্তায়। শুধু আমাকে নয়, আমার স্ত্রী, কন্যা, বোনসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়েও নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। এমনকি কোথায় থাকি, কোন পথে চলাফেরা করি—এসব খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্যে পোস্ট করা হচ্ছে। এই অনলাইন আক্রমণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বিতভাবে পরিচালিত একটি প্রচারণার অংশ, যার লক্ষ্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও মানসিকভাবে চাপে রাখা।’
তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরাও এই প্রচারণা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। আমার কন্যা, স্ত্রী, বোন—সবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে গিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা হচ্ছে। তাদের ছবি বিকৃত করা হচ্ছে। ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা ধরনের সহিংস হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এগুলো শুধু অনলাইন ট্রল নয়, এগুলো মানসিক সন্ত্রাস। আমার পরিবারের জন্য এটা ভয়াবহ মানসিক চাপের বিষয়। একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে আমার প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংস উসকানি ও হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অধ্যাপক নিউটনের অভিযোগ, তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং চলাফেরার তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘আমার ১৪ গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে পোস্ট করা হচ্ছে। কোথায় থাকি, কার সঙ্গে চলাফেরা করি—এসব তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ‘ডক্সিং’ নামে পরিচিত। এর উদ্দেশ্য হলো একজন মানুষকে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া। এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল অনলাইন হয়রানি নয়, বরং বাস্তব জীবনে হামলা বা সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করে।’
হত্যার হুমকি নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কে কখন মারা যাবে, সেটা তো আমাদের হাতে নেই। কেউ যদি সত্যিই হামলা করতে চায়, সে হুমকি দিয়ে নয়, সরাসরি করবে। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দিই না। কিন্তু রাষ্ট্রের ভেতরে যদি প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ বা হামলার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার কোনো প্রতিকার না হয়, সেটাই উদ্বেগের বিষয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘আমিও বিষয়টা ফেসবুকে দেখেছি। তবে তিনি কোনো অভিযোগ বা এ ধরনের কিছু আমাদেরকে জানাননি। এ ছাড়া সাইবার বুলিং একটা ওয়াইড এরিয়া, এখানে আসলে সুনির্দিষ্ট দোষীকে আইডেন্টিফাই করা কঠিন। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর অভিযোগটা জরুরি। তিনি যদি অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা বিষয়টা দেখতে পারি। দেশের বাইরে বা অন্য কেউ হলে সেক্ষেত্রে আমাদের তো সেই মেকানিজম নাই। তাকে কে কোথা থেকে কী বলছে, তা বের করা আমাদের জন্য কষ্টকর। তবে তিনি সাহায্য চাইলে আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করব।’