Monday 13 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে সশস্ত্র হামলা / ‘ব্যবসা করলে এককালীন দিবি ২ কোটি, আর মাসে ১০ লাখ’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুলাই ২০২৬ ২১:২২

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: চট্টগ্রামে মহানগরীতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দিনে দুপুরে হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে ইমন নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের ক্যাডাররা এই হামলা চালিয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সন্ত্রাসী গ্রুপটি দুই কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছিল। সেই চাঁদার টাকা না পেয়ে দিন-দুপুরে হামলা চালায়। পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সাজ্জাদের অনুগত সন্ত্রাসীরা এ কাজ করে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। এতে ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ।’ এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।

মামুনের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় ডেভিড ইমন নিজেকে সবাই চেনে বলে দাবি করেন। এমনকি তার ছবি পুলিশ কমিশনারকে দেখিয়ে চিনে নিতে বলেন। স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসায় চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনাও উল্লেখ করেন।’

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশীয় অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান।

ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ডিডিএন’র পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, ‘হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালান। এ সময় কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান তারা।’

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

কে এই ইমন

মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দু’জন। তাদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তার হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর