সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং নিয়ে একটা সময় ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত লিড পেল। বিপদের মুখে লিটন দাসের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের সংগ্রহটা সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছেছে। তারপর দুর্দান্ত বোলিংয়ে লিড আদায় করে নিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত ২৩২ রানে গুটিয়ে দিয়েছে টাইগাররা। যাতে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। লিটনের সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ২৭৮ রানে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশ ২৭৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বিনা উইকেটে ২৭ রান তুলে কাল দিনের খেলা শেষ করেছিল পাকিস্তান। আজ সকালে নিজের পর পর দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন তাসকিন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তিনি ফেরান ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে। লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে ৯ রান করে বিদায় নেন এই তরুণ ব্যাটার। পরের ওভারেই আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রান করে ফেরেন অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার।
দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের হাল ধরেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। তবে তাদের জুটি বেশিদূর এগোতে দেননি মেহেদি হাসান মিরাজ। ২১ রান করা শান মাসুদকে ফেরান মিরাজ। খানিক বাদে সৌদ শাকিলকেও ফেরান মিরাজ। চাপ কাটাতে গিয়ে সুইপ খেলতে চেয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার, কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে গেলে সহজ ক্যাচ নেন লিটন দাস।
তবে মধ্যহ্ন বিরতির পর সালমান আগাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন বাবর আজম। দুজন মিলে গড়েন ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। বাবর আজম দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। ৮৪ বলে ১০টি চারে ৬৮ রান করা বাবরকে ফেরান নাহিদ রানা। গতি ও বাউন্সের সাথে ফুল লেন্থের এক বলে বিভ্রান্ত হয়ে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন বাবর।
বাবরের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। সালমান আগা করেন ২১ রান, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৩ এবং হাসান আলি ১৮ রান করে ফেরেন। ইনিংসের শেষদিকে সাজিদ খান ঝড়ো ব্যাটিং করে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন। মাত্র ২৮ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন এই স্পিনার। তার আগ্রাসী ব্যাটিং না হলে বাংলাদেশের লিড আরও বড় হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ২৩২ রানে থেমেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ শিকার করেন দুটি করে উইকেট।