ঢাকা: বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ আবারও কড়া নাড়ছে দুয়ারে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর—ফিফা বিশ্বকাপের। আগামী ১১ জুন জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো সিটিতে গড়াবে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। সেই মহারণ শুরুর ২৮ দিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বকাপের অলটাইম র্যাঙ্কিং, যেখানে ইতিহাসের মুকুট এখনও ব্রাজিলের মাথায়। চিরচেনা সেলেসাওরা উঠে এসেছে তালিকার শীর্ষে। আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অবস্থান করছে তিন নম্বরে। দুই নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দলগুলোর সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে এ অলটাইম র্যাঙ্কিং।
র্যাঙ্কিং নির্ধারণে অনুসরণ করা হয়েছে অভিন্ন পয়েন্ট পদ্ধতি। প্রতিটি জয়ের জন্য ৩ পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য ১ পয়েন্ট ধরা হয়েছে। সমান পয়েন্ট হলে টাইব্রেকারে বিবেচনায় এসেছে গোল ব্যবধান—অর্থাৎ কত গোল করেছে এবং কত গোল হজম করেছে তার পার্থক্য। এরপরও সমতা থাকলে দেখা হয়েছে মোট গোলসংখ্যা।
এ ঐতিহাসিক তালিকায় সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ব্রাজিল। ১৯৩০ থেকে ২০২২—বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই অংশ নেওয়া একমাত্র দল তারা। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে পারলে সেটি হবে তাদের টানা ২৩তম বিশ্বকাপ উপস্থিতি। ধারাবাহিক অংশগ্রহণ, পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা ও অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের হাত ধরে ব্রাজিল এখনও বিশ্বকাপের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও সফল দল হিসেবে বিবেচিত।
অংশগ্রহণের সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি। পশ্চিম জার্মানি ও একীভূত জার্মানির রেকর্ড মিলিয়ে ২০২২ পর্যন্ত তারা খেলেছে ২০টি বিশ্বকাপে। এরপর যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছে আর্জেন্টিনা ও ইতালি—দুই দলই অংশ নিয়েছে ১৮টি আসরে। আর মেক্সিকো খেলেছে ১৭টি বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপে উপস্থিতির হিসাবে ইতিহাসের তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনা প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৩০ সালে। তবে ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালের আসরে অংশ নেয়নি ‘আলবিসেলেস্তেরা’। এরপর ১৯৭৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিয়মিতভাবে দেখা গেছে তাদের। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিলে আর্জেন্টিনার মোট উপস্থিতি দাঁড়াবে ১৯-এ।
২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ ট্রফি না জিতলেও অলটাইম র্যাঙ্কিংয়ের সিংহাসনে এখনও অটল ব্রাজিল। ১১৪ ম্যাচে ৭৬ জয়, ১৯ ড্র ও ১৯ হারে তাদের সংগ্রহ ২৪৭ পয়েন্ট। এই দীর্ঘ যাত্রায় তারা করেছে ২৩৭ গোল, গোল ব্যবধান +১২৯। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল প্রথম শিরোপা জেতে ১৯৫৮ সালে। এরপর ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে আবারও বিশ্বকাপ ছুঁয়েছে সেলেসাওদের হাত।
অলটাইম তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির পয়েন্ট ২২৫। ১১২ ম্যাচে অর্জিত এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে চারটি বিশ্বকাপ শিরোপা। ১৯৫৪ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে আবারও শিরোপা জেতে তারা। এ ছাড়া, আটবার ফাইনাল খেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ধারাবাহিক সফল দলে পরিণত হয়েছে জার্মানি।
সর্বকালের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনা ৮৮ ম্যাচে ৪৭ জয়, ১৭ ড্র ও ২৪ হারে সংগ্রহ করেছে ১৫৮ পয়েন্ট। তাদের গোলসংখ্যা ১৫২ এবং গোল ব্যবধান +৫১। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২—এই তিন বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি ছয়বার ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব তাদের স্থান করে দিয়েছে ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের কাতারে।
এদিক, চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও অলটাইম পয়েন্ট তালিকায় আর্জেন্টিনার ঠিক নিচে অবস্থান ইতালির। ৮৩ ম্যাচে ৪৫ জয় নিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৫৬ পয়েন্ট, যা আর্জেন্টিনার চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট কম। ইতালির গোল ব্যবধানও +৫১। তবে টানা তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় পিছিয়ে পড়েছে আজ্জুরিরা। ইতালির চারটি বিশ্বকাপ আসে ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে।
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ৭৩ ম্যাচে ৩৯ জয় নিয়ে তাদের সংগ্রহ ১৩১ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান +৫১। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ফরাসিরা। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার ট্রফি তোলে তারা। যদিও ২০০৬ ও ২০২২ সালে ফাইনালে গিয়েও শেষ হাসি হাসতে পারেনি ইউরোপের এই দলটি।