ঢাকা: ঢাকার রাজপথ তখনও তপ্ত। কিন্তু শাহবাগ মোড় থেকে ফার্মগেট, এমনকি পুরো রাজধানী জুড়ে তখন স্লোগানের দামামা। ঘড়ির কাঁটা বিকেল ছুঁইছুঁই, আর হাজারো শিক্ষার্থীর কণ্ঠে একটাই সুর, ‘কোটা না মেধা, মেধা, মেধা’। এই স্লোগান কেবল কোনো দাবি ছিল না, এটি ছিল একটি প্রজন্মের জেগে ওঠার প্রতিধ্বনি।
৬৫ সদস্যের সমন্বয়ক কমিটি গঠন
৮ জুলাই ২০২৪, সেদিন ছিল যেন এক রূপান্তরের দিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের ব্যানারে ৬৫ সদস্যের ‘সমন্বয়ক কমিটি’র আত্মপ্রকাশ ঘটল। এই কমিটিই ঘোষণা করল সরকারের জন্য তিন দিনের চূড়ান্ত আল্টিমেটাম। নাহিদ ইসলামের কণ্ঠে তখন দৃঢ় উচ্চারণ ‘আমাদের আদালত দেখিয়ে লাভ নেই, আমরা আপনাদের সংবিধান দেখাচ্ছি’।
স্তব্ধ হলো ঢাকা, গর্জে উঠল দেশ
শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত যেন পরিণত হলো জনসমুদ্রে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শুরু করে রাজশাহী ও ময়মনসিংহের রেললাইন, সবই চলে গেল শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রতীকী প্রতিরোধে আগুন জ্বলেছে শাবিপ্রবিতে, আর জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে নেমেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
‘বাংলা ব্লকেড’ ও যৌক্তিক দাবি
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি ছিল স্পষ্ট। ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল, কোটার যৌক্তিক সংস্কার, মেধাতালিকার অগ্রাধিকার এবং দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা বৈঠকের পর বৈঠক করলেও কোনো সমাধান আসেনি। বরং সেই সময়ের শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজেছিলেন, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বাংলা ব্লকেড’ হ্যাশট্যাগে এই আন্দোলনের বার্তা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
অমিমাংসিত এক গল্পের শেষ অধ্যায়
রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শাহবাগের সমাপনী বক্তব্যে নাহিদ ইসলামের শেষ কথাগুলো ছিল স্পষ্ট ‘আমরা হুট করে নামিনি, এখন বল সরকারের কোর্টে’। সেদিন হয়তো কেউ ভাবেনি, ১০ জুলাইয়ের সেই সর্বাত্মক অবরোধের ডাক আসলে বাংলাদেশের আগামীর মানচিত্র বদলে দেওয়ার প্রথম ধাপ ছিল। একটি প্রজন্ম রাজপথকে নিজেদের কথা বলার মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছিল, যার রেশ আজও প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন প্রতিধ্বনি হয়ে বাজে।