Wednesday 08 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭

ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীলফামারী ও লালমনিরহাট সীমান্তের তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী বুধবার ( ৮ জুলাই) বলা হয়েছে , ভারতের গজলডোবা ও সিকিম অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে আসা ঢল তিস্তা নদীতে তীব্র গতিতে প্রবেশ করছে। এর ফলে ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও সতর্কাবস্থায় রয়েছে, যা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোকে প্লাবিত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি নদীগুলোর পানি সমতল সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, মুহুরী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার ও ফেনী জেলার কিছু কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, দেশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েকদিন তা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।