ঢাকা: নাক চেপে ধরে রাস্তায় বের হওয়া কিংবা ধুলোবালির চাদরে ঢাকা চারপাশ মেগাসিটি ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য এটিই প্রতিদিনের চেনা ছবি। কিন্তু আজ সকালের চিত্রটি একদম ভিন্ন। চিরচেনা সেই দমবন্ধ করা পরিবেশকে পেছনে ফেলে আজ এক নতুন ভোরের দেখা পেয়েছে এই রাজধানী। বৈশ্বিক বায়ু দূষণের তালিকায় যেখানে ঢাকা নিয়মিত শীর্ষ তিন বা পাঁচের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, সেখানে আজ সকালের তাজা তথ্য পুরো নগরবাসীকে এক দারুণ স্বস্তি উপহার দিয়েছে। দূষণের রাজত্ব ভেঙে ঢাকা আজ বৈশ্বিক তালিকায় অনেকখানি নিচে নেমে এসেছে, যা মেগাসিটির মানুষের ফুসফুসের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ লাইভ ডাটা অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বিশেষ আপডেটে বিশ্বের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২৭ নম্বরে। অর্থাৎ, দূষণের শীর্ষ তালিকায় থাকা তো দূরের কথা, ঢাকা এখন অনেকটাই নিরাপদ জোনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৬৯। বায়ুমানের আন্তর্জাতিক স্কেল অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো বলা হলেও ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘সহনীয়’ বা মডারেট ধরা হয়। সেই হিসেবে ঢাকার আজকের বাতাস সম্পূর্ণ সহনীয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য একদম উপযোগী।
যখন ঢাকা স্বস্তির বাতাস গায়ে মাখছে, তখন বিশ্বের অন্য প্রান্তের মেগাসিটিগুলো বিষাক্ত বাতাসে হাবুডুবু খাচ্ছে। আজকের লাইভ র্যাংকিংয়ে বিশ্বজুড়ে বায়ু দূষণের তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ১৯১, যা আন্তর্জাতিক পরিমাপে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুয়েতের কুয়েত সিটি, যার স্কোর ১৬১। এছাড়া ১৫২ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ তৃতীয় এবং ১৪৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
হঠাৎ করে ঢাকার বাতাসের এই অভাবনীয় উন্নতির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে বর্তমান মৌসুমের আবহাওয়া। পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বর্ষা মৌসুমের নিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের তীব্র গতির কারণে বাতাসে ভেসে থাকা অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম ২.৫ সহজেই মাটিতে মিশে যায়। এছাড়া ঢাকার চারপাশের ইটভাটাগুলো বন্ধ থাকা এবং বৃষ্টির কারণে রাস্তার ধুলাবালি কমে যাওয়াও বায়ুমান উন্নত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ। তবে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি প্রকৃতির নিজস্ব উপহার এবং সাময়িক। শুষ্ক মৌসুম শুরু হলেই যেন শহরটিকে আবার সেই পুরনো রূপ ধারণ করতে না হয়, সেজন্য এখনই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।