ঢাকা: এশিয়ার দেশ জাপানের কাছে প্রথমার্ধে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত লড়াইয়ের ফিরে নাটকীয় জয় তুলে নিল ব্রাজিল। শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।
হিউস্টনের লড়াইয়ে শুরুটা ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। একের পর এক আক্রমণ চালালেও জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং গোলরক্ষক সুজুকির দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, দানিলো ও কুনহার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
কিন্তু হঠাৎ-ই গোল করে এগিয়ে যায় জাপান। ২৮ মিনিটে ব্রাজিলের ভুল পাস থেকে বল কুড়িয়ে নিয়ে দারুণ দৌড়ে এগিয়ে যান কাইশু সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে তার শট জড়িয়ে যায় জালে। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল, তবে প্রথমার্ধে আর সফল হতে পারেনি তারা।
বিরতির পর বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা। লুকাস পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামান আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুসকে আরও বেশি করে বাঁ দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ব্রাজিলের আক্রমণে গতি বাড়ে। বিরতির পর দলে পরিবর্তন এনে পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামান ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি বাড়ায় তারা।
৫৫ মিনিটে আসে সমতা। ভিনিসিয়ুসের দিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে বল আসে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের কাছে। তার ক্রসে হেড করে গোল করেন কাসেমিরো। প্রথমে অফসাইডের সম্ভাবনায় গোলটি পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গোল বহাল থাকে। ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
সমতার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয় সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। এরপরও একের পর এক আক্রমণে জাপানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে ব্রাজিল।
জাপান ধীরে ধীরে রক্ষণে নেমে যায়। শেষ দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ব্রাজিলের চাপ থামেনি। ক্রস, সেট পিস, দ্রুত পাস, সব পথেই চেষ্টা করতে থাকে আনচেলত্তির দল। ম্যাচ ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল এমনটা ধরেই নিয়েছিলেন দর্শক-সমর্থকরা। ঠিক তখন ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে আসে ব্রাজিলের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
জাপানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গিমারায়েসের বাড়ানো থ্রু পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। তার ৯৬তম মিনিটের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নেয় ব্রাজিল।