ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা প্রস্তাব করেছেন, সিনেটকে আরও বেশি ইনক্লুসিভ করতে কিছু চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্য আমি দু’টি অনুচ্ছেদের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। ২০-এর ১-এর ই ধারায় যেখানে আমরা জানি যে, স্পিকার কর্তৃক ৫ জন সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমার প্রস্তাব এই ৫ জনের মধ্যে বিরোধীদলের অন্তত দু’জন যেন থাকে। পাঁচ জন সদস্যের সকলেই পুরুষ। এখানে আমি জেন্ডারসহ অন্যান্য অন্তর্ভুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত বার্ষিক সিনেট সভায় উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বক্তব্যের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা খাতে বরাদ্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে রাখার সমালোচনা করেন তিনি । তিনি বলেন, ‘এটি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার সম্পূর্ণ বিরোধী।’
সামিনা লুৎফা বলেন, ‘গবেষণা নিয়ে অনেক আলাপ হচ্ছে। গবেষণার বরাদ্দই নেই, সেটি নিয়ে কী বলব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি। গবেষণার বরাদ্দটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কাছে নয়।’
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অথরিটিজ বা কর্তৃপক্ষের তালিকা রয়েছে, সেখানে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা ডিনস কমিটির কোনো এন্ট্রি নেই। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত প্রশাসনের সময়ে আমরা সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কমিটির কথা অনেক শুনেছি। এই দু’টি কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ না হওয়ার পরেও কি করে এই দুটি ব্যবস্থা টিকে রয়েছে, বা আদৌ আছে কি না? যদি থাকে তাহলে এটা কেন বিলোপ করা হবে না?’
সামিনা লুৎফা বলেন, ‘একই ধারায় জি-তে গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিদের বিষয়ে কথা আছে। ৭৩-এর আদেশ অনুযায়ী এটি নির্ধারণ করে সিন্ডিকেট। আমার প্রস্তাব, এটি একাডেমিক এক্সারসাইজের অংশ এবং সিন্ডিকেটের বদলে এটি একাডেমিক কাউন্সিল থেকে আসা উচিত। এ ছাড়াও উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতার একটা পরিধি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’
সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা প্রশাসনিক এবং আমলাতান্ত্রিক অনেক বেশি প্রভাব দেখতে পাই। এটি একধরনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আসে। এই রাজনৈতিক প্রভাবকে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে আনার জন্য আমার প্রস্তাব হচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে চ্যান্সেলরের মনোনীত প্রতিনিধি, যারা মূলত সরকারের সরকারের এক ধরনের প্রভাব নিয়ে আসে, যেটা অপ্রয়োজনীয়। শিক্ষক নিয়োগে তাদের থাকার দরকার নেই। এ ছাড়া সাবজেক্ট এক্সপার্ট হিসেবে যাদেরকে রাখা হয়, সেই সাবজেক্ট এক্সপার্ট কে হবেন, কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটা বিভাগ এবং ফ্যাকাল্টি পর্যায় থেকে আসা উচিত এবং সেটার একটা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এবং পরিধি থাকা উচিত; যাতে যে কেউ এক্সপার্টের নাম দিয়ে এসে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে হাজির হতে না পারে।’
সিনেট সভায় উপাচার্য ছাড়াও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) আলমোজাদ্দেদী আলফেছানি, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, রেজিস্টার মুন্সি শামস উদ্দিন আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর খায়রুল কবির খোকন, এমপি; এ কে এম ফজলুল হক মিলন, এমপি; কামরুজ্জামান রতন এমপি ও আমিনুল ইসলাম খান, এমপি। এদের বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, পরিবহণ সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।