Sunday 23 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিদেশে প্রতারিত হয়ে চাঁদার পরিকল্পনা, চিকিৎসকদের ওপর হামলায় গ্রেফতার ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২০

ঢাকা: চাঁদা দাবিতে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টা. মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের উপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট ঢাকা মেডিকেলের ডিএমসিএইচ-এর অধ্যাপক আসাদুর রহমানের যখন তার প্র্যাকটিস শেষ করে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ৫ থেকে ৬ জন দুষ্কৃতকারী তাকে আক্রমণ করে এবং মারধর করে মারাত্মকভাবে আহত করে। এসময় তার চিৎকারে পথচারী এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এসে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে। ওই ব্যক্তির নাম জীবন। এই ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শফিকুল ইসলাম বলেন, এই নৃশংস ঘটনার পর পরই ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে পল্টন থানা জীবনকে জিজ্ঞাসাবাদে এই সংক্রান্তে ইভান নামে একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ইভানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ইভান স্বীকার করে যে তাদের একটি গ্রুপ আছে। এই গ্রুপ দেশের বিভিন্ন ধর্নাঢ্য ব্যক্তি এবং পেশাগত যে সমস্ত বড় বড় ব্যক্তি আছে তাদেরকে টার্গেট করে, ঠিকানা যোগাড় করে, পেশাগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে।

তিনি বলেন, একইভাবে তারা গত ২৭ জুলাই আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের একজন অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককেও (ইন্টারনাল মেডিসিনের প্রফেসর) চাঁদার দাবিতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য উনার গাড়ি আটকে মারধর করে। সে সংক্রান্তেও ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি হয়েছিল। ইভানের দেওয়া তথ্য মতে আমরা ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে সানি (৩৮) এবং খাতিম ইশরাক লাবিব (২০) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করি। এই সানি হচ্ছে এ চক্রের মূল হোতা। সানি ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত লেবার ভিসায় সিঙ্গাপুরে ছিল। সে সিঙ্গাপুরে থাকাকালে জনৈক বাঙালি একজন ব্যক্তির সঙ্গে তার সখ্যতা হয়। সে সখ্যতা ধরে তারা হুন্ডি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং হুন্ডি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার পর সানি বিভিন্নভাবে প্রায় ৫ কোটি টাকার মতো প্রতারিত হয় তার পার্টনার দ্বারা। তারপরে সে হতাশগ্রস্ত হয়ে দেশে চলে আসে। দেশে এসে সে বসুন্ধরা এলাকায় থাকে এবং ওই লোককে খুঁজতে থাকে।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে তার সঙ্গে একজন ব্যক্তির পরিচয় হয়, যে ব্যক্তি তাকে এই বুদ্ধি দেয় যে ‘তুমি যে লস করেছ, সে লস কাভার করার জন্য আসো আমরা একটা গ্রুপ করি। গ্রুপ করে এখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, তাদেরকে আমরা নাম-ঠিকানা, তাদের গাড়ির নাম্বার, তাদের ফ্যামিলি বায়োডাটা এগুলো সংগ্রহ করে তাদেরকে আমরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করব এবং তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করব।’

এভাবে তারা ৭ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে এবং এই গ্রুপের শিকার হচ্ছে আমাদের দুই জন ডাক্তার।

তিনি বলেন, আমরা গতকাল সানি এবং লাবিবকে গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে এই ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য একটা ছোরা, ছুরি এবং একটা তলোয়ার (প্রায় ২৫ ইঞ্চির মতো) উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। এই গ্রুপের সঙ্গে অন্য আরও ৩ থেকে ৪ জন জড়িত আছে, তারা আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে আছে। আমরা অচিরেই তাদেরকে গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাচ্ছি পেশাগত ক্ষেত্রে বা আমাদের যারা গুণীজন আছেন, তারা এরকম কোনো সংবাদ পেলে এতে ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানাকে যেন অবগত করেন। এরকম কোনো অপতৎপরতায় কেউ লিপ্ত হলে আমরা তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করব।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর