Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় আম্মারের মামলা, আসামি ৫

রাবি করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০৭

সালাহউদ্দিন আম্মার। ছবি: সংগৃহীত

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভবনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলী আদালতে মামলাটি করেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথিতে মামলাটির নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার) উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আদালতে দেওয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের জিএসের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদী নামের এক ব্যক্তি আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগে বলেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসুর জিএসের অফিসে দাফতরিক কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার অফিসের সামনে জড়ো হয়। পরে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে ২০২ নম্বর কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অফিসে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সঙ্গে অফিসের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে নাজমুস সাকিব ও মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রডের আঘাতে নাজমুস সাকিবের ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি তা হলো মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে এবং এটা বর্তমান পিবিআই-এর তদন্তাধীন পর্যায়ে আছে। পিবিআই মামলাটির তদন্ত শেষ করবে, এরপর পরবর্তী পদিক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার, এজন্য আমার সম্পাদকদেরকে ইনভল্ভ করে একটা মামলা করছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা, এ ছাড়া আর কিছুই না।’

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর