চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে নারীচালক ও সহকারীসহ নারীদের পরিচালনায় বিআরটিসির বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি দোতলা ও একটি একতলা গোলাপি বাসের মাধ্যমে কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এ সেবা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে বাস সার্ভিসটির উদ্বোধন করা হয়।
বাস দু’টি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা হয়ে ফ্রি পোর্ট ও পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে। প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে যাত্রীদের জন্য ১২টি নির্ধারিত স্টপেজ রয়েছে। দূরত্ব অনুযায়ী সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং পুরো পথের সর্বোচ্চ ভাড়া ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টায় কালুরঘাট থেকে প্রথম বাস ছেড়ে যাবে। এর আধাঘণ্টা পর দ্বিতীয় বাসটি যাত্রা শুরু করবে। বাসগুলোর চালক ও সহকারী নারী; যাত্রী হিসেবেও কেবল নারীরাই চলাচল করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এবং বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হলো। পুরো পরিচালনা প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। চট্টগ্রামের মানুষের পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সার্ভিসের মাধ্যমে নারীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘দিনটি চট্টগ্রাম ও নারীসমাজের জন্য স্মরণীয়। শিল্পনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে হাজারো নারী কাজ করেন। তাদের নিরাপদে কর্মস্থলে যাতায়াত ও বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে সরকার এ বিশেষ বাসসেবা চালু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসের চালক ও কন্ডাক্টরও নারী। ফলে নারী যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাসের সংখ্যা ও চলাচলের পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার ৪০০টি নতুন বৈদ্যুতিক বাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি নারীদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখান থেকে বাস পাওয়া গেলে চট্টগ্রামে এ সেবা আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’
বাসের জন্য গোলাপি রং বেছে নেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নারীসমাজের কাছে পছন্দের রং হিসেবে গোলাপির প্রচলন রয়েছে। সেটি বিবেচনায় নিয়েই বাসের রং নির্ধারণ করা হয়েছে।’
নারীদের এ বাসসেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিকদের তাদের নারী কর্মীদের এ নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধও জানান তিনি।