ফরিদপুর: জেলার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মোবাইলের দৃশ্য ধারণের মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এই রায় দেন।
এসময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— নাসির মোল্যা, সৈকত মন্ডল ও নাসির হোসেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর এলাকার নাসির মোল্যার সাথে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নাসির মোল্যা মেয়েটির সাথে দেখা করতে তাদের এলাকায় আসে। এসময় তারা একটি বাগানে দেখা করতে গেলে সেখানকার কয়েক যুবক বিষয়টি দেখে তাদের ধরে নদী পাড় হয়ে চরে নিয়ে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণও করে তারা।
পরেরদিন মেয়েটি বাদী হয়ে নাসিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বোয়ালমারী থানায় ধর্ষণ ও পর্নগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করে।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী এ্যাড. গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন বলেন, ‘বোয়ালমারী উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীর সাথে মোবাইল ফোনে এক যুবকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক মেয়েটির সাথে দেখা করতে গেলে আরো কিছু যুবক মিলে তাদের ধরে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে আদালত। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।’