ইরানের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় গত মাসে ন্যাটো সামিট শেষে গোপনে বিমান বদলে তুরস্ক ছেড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সামিট শেষে গত ৮ জুলাই সম্ভাব্য হুমকির কারণে তিনি গোপনে বিমান বদল করে তুরস্ক ছেড়েছিলেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সিক্রেট সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীর নির্দেশ মেনেই চলি। তারা চেয়েছিল আমি যেন অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি বিমানে যাই। তারা যা বলে, আমাকে তাই করতে হয়।’
জানা যায়, গত ৮ জুলাই ট্রাম্প সাংবাদিক ও ক্যামেরার সামনে তার জন্য নির্ধারিত এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়েন। তবে পরে তিনি একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে অপর একটি সামরিক বিমানে চড়ে তুরস্ক ত্যাগ করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানান, ট্রাম্পের জন্য নির্ধারিত বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের কাছে একজন ব্যক্তিকে কাঁধে বহনযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রসহ দেখা গেছে, মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে এমন তথ্য ছিল বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এর আগে, ট্রাম্প আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের সময় বলেছিলেন যে তিনিই ইরানের ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।’
যেভাবে বিমান বদল করেছিলেন ট্রাম্প
ন্যাটো সামিটে অংশ নিতে গত মাসে কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে করে তুরস্কে পৌঁছেছিলেন ট্রাম্প। তবে তিনি ঘোষণা করেন যে, ‘পুরনো দিনের কথা মনে করে’ পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ফিরে যাবেন তিনি।
গত ৮ জুলাই সাংবাদিক ও ক্যামেরার সামনে আঙ্কারা বিমানবন্দরে নির্ধারিত বিমানেও ওঠেন ট্রাম্প।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ট্রাম্প যেখান থেকে বিমানে উঠেছিলেন তার বিপরীত দিকে, বিমানের পাশে থাকা একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে নেমে পড়েন তিনি। এরপর সেই ট্রাকে করে তাকে একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়— যা একটি পরিবর্তিত বোয়িং ৭৫৭। সেই বিমানটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেয়।
সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মী যারা এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠেছিলেন, তাদের সেসময় জানালার পর্দা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই একটি যুদ্ধকালীন পদ্ধতি, যা চলমান যুদ্ধের মধ্যে বিমান উড্ডয়নের সময় প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে তাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও তারা জানতেন না যে রাষ্ট্রপতি আর তাদের সাথে সেই বিমানে নেই।