বেনাপোল: ভারত থেকে পৃথক দুটি প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি নারী।
বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় অনুষ্ঠিত এ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় ভারতীয় অভিবাসন দফতর, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ১০২ ব্যাটালিয়ন, মহারাষ্ট্রের নাসিক গ্রামীণ পুলিশের প্রতিনিধি এবং সরকারি নারী নিবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কর্মকর্তা, ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধি ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের গ্রহণ করেন।
ভারতীয় অভিবাসন দফতরের প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রথমে রিয়া খাতুন ওরফে রিয়া নামে এক বাংলাদেশি নারীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে হস্তান্তর করে। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন, ভারত থেকে ২৩ মে ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা ভ্রমণ অনুমতিপত্র এবং মুম্বাইয়ের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর থেকে ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা বহির্গমন অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
একই দিন দেশে ফিরেছেন শিল্পী আবাদুর শেখ ওরফে শিল্পী এবং সিমলা হাসেম সরদার খাতুন ওরফে সিমলা খাতুন নামে আরও দুই বাংলাদেশি নারী।
ফেরত আসা শিল্পী আবাদুর শেখ নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পেরলী বাজার এলাকার জামরিলডাঙ্গা গ্রামের আবাদুর রউফ মুন্সির মেয়ে। অন্যদিকে সিমলা খাতুন পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার ফেলজানা এলাকার হাসেম সরদারের মেয়ে।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, তাদের একজনের ভ্রমণ অনুমতিপত্র ১২ মে এবং অপরজনের ২৩ মে ২০২৬ তারিখে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা হয়। এছাড়া ভারতের পুনে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর থেকে তাদের বহির্গমন অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও এনজিও সংস্থা সূত্রে জানা যায়, এই নারীরা দালালের প্রলোভনে পড়ে ভালো চাকরির আশায় বিভিন্ন সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে যান। পরে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করে ভারতীয় পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হলে সেখানে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগের পর সেদেশের মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।
অবশেষে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে দেশে ফেরার জন্য তাদের ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হয়। সেই অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিন নারীকে স্ব-স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, প্রত্যাবর্তনসংক্রান্ত নথিতে থাকা তিন নারীকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য যশোরের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি এনজিও সংস্থা তাদের গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে এসব নারীকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তারা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের হেফাজতে শেল্টার হোমে থাকবেন।’