ঢাকা: ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তথ্য নিয়ে একটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার (৯ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার-এর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার। রুলের জবাব দিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী ফাহমিদা আখতার বলেন, দেশে অপরাধের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ ও জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য করতে একটি অনলাইন ডাটাবেজ প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে এর মাধ্যমে একদিকে অপরাধীদের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়বে, অন্যদিকে অপরাধ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ড যদি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে, তাহলে তথ্য গোপন থাকার সুযোগ কমবে। সামাজিকভাবে সমালোচনা বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা অপরাধীদের পুনরায় অপরাধ করার প্রবণতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ফাহমিদা আখতার আরও বলেন, দেশে অপরাধ সংঘটনের পর মামলা ও শাস্তির বিষয়ে বিভিন্ন আইন থাকলেও অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা সীমিত। বিশেষ করে কাউকে চাকরিতে নিয়োগ, বাসায় রাখার জন্য নিয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের আগে তার অপরাধের ইতিহাস যাচাই করার মতো সহজ ও কার্যকর কোনো প্রক্রিয়া নেই।
তার মতে, দণ্ডিত ব্যক্তিদের তথ্য সম্বলিত একটি অনলাইন ডাটাবেজ চালু করা হলে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
আইনজীবী জানান, এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন। রিটের শুনানি শেষে আদালত দণ্ডিত আসামিদের রেকর্ড সংরক্ষণ ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির বিষয়ে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।