Sunday 21 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাইবার সেফটি আইনের বিতর্কিত ধারা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

স্টাফ করেসপন্ডেট
২১ জুন ২০২৬ ১৬:১২ | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৭:০৯

– সংগৃহীত কোলাজ ছবি

ঢাকা: সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার (ইমপারসোনেশন) এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের বিধান রাখা সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (২১ জুন) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনেরা হক মনি ও অ্যাডভোকেট শাহলা শরাফিন নেজাদ।

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা যেসব ক্ষেত্রে সাইবার যৌন হয়রানি, নারীর বিরুদ্ধে অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ইমপারসোনেশন এবং নারী হয়রানি-সংক্রান্ত বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো খারিজ, অবলুপ্ত বা প্রত্যাহারের বিধান দেয়, তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের মামলা নং-৪১/২০২৩ সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারার ভিত্তিতে খারিজের আদেশ কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাইবার সেফটি আইন, ২০২৬-এর ৫০(৫) ধারা কার্যত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর বিলুপ্ত কয়েকটি ধারার অধীনে দায়ের হওয়া বিচারাধীন মামলাগুলো বিশেষ করে সাইবার যৌন হয়রানি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্টকিং, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর নারীবিদ্বেষী অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, নতুন আইন প্রণয়নের সময় চলমান মামলার ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় কোনো ‘সেভিং ক্লজ’ বা ‘ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন’ রাখা হয়নি। এর ফলে সাইবার সহিংসতার শিকার অনেক নারী ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সংবিধানে নিশ্চিত করা আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের সমান সুরক্ষা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং কার্যকর প্রতিকার লাভের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রিট ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের অধিকার এবং আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। রুলের জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর