Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় অদম্য পল্লবী থানা

মেহেদী হাসান স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৪ | আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৮

পল্লবী থানা।

ঢাকা: রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম পল্লবী। প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থিরতা, যানবাহন ও লজিস্টিক সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং দমন, চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে পল্লবী থানা পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, অপরাধ দমনে মাদক নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গত ৩ মাসে (মে থেকে জুলাই) মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে ১ হাজার ৭৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৫০টি মাদক মামলা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪০৬ পিস ইয়াবা, ২২ কেজি ৮৪৫ গ্রাম গাঁজা ও ৪০৪ গ্রাম হেরোইন। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় নিখোঁজ ১৪৮ জনকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

মাদকবিরোধী অভিযানে জোর

পল্লবী এলাকায় মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অভিযানের ফলে এলাকার কয়েকটি শীর্ষ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

পল্লবী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির বলেন, ‘হয়তো পল্লবীকে মাদকমুক্ত করতে পারব না, তবে মাদকটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব, ইনশাআল্লাহ। গত তিন মাসে ১ হাজার ৭৯৫ মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও অভিযান

পল্লবী এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ছিল কিশোর গ্যাং। বিশেষ করে ‘ভইরা দে’ ও ‘বাহুবলী গ্যাং’ এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘ভইরা দে’ গ্যাংয়ের প্রধান আশিকুর রহমান শান্ত ওরফে আশিকসহ সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে। ‘বাহুবলী গ্যাং’-এর দলনেতাকেও গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি হাসান বাসির বলেন, ‘এখানে কিশোর গ্যাংয়ের একটা তৎপরতা আছে। এটা নিয়েও কাজ করছি। বেশ কিছু কিশোর গ্যাং ধরেছি। সম্প্রতি “ভইরা দে” নামের পুরো গ্যাংটিকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি। তারা এক প্রকার নির্মূল হওয়ার পথে। “বাহুবলী গ্যাং” নামের গ্রুপটাও এখন প্রায় নির্মূলের পথে।’

৫ আগস্টের পরও স্বাভাবিক পুলিশিং

দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পল্লবী থানাতেও পুলিশের কার্যক্রমে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে পরে পরিস্থিতি সামলে নিয়মিত পুলিশিং কার্যক্রমে ফেরে থানা পুলিশ।

ওসি হাসান বাসির বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই একটি প্রভাব পড়েছিল ৫ আগস্টের পরে। তবে সেখান থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করেছি এবং বলা যায় এখন আমরা রিকভারি করে ফেলেছি। আমরা নিয়মিতভাবেই স্বাভাবিকভাবে পুলিশিং করছি।’

তিনি জানান, ওই সময় কিছু অস্ত্র খোয়া গিয়েছিল। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে। গত জুনে পল্লবী থানা এলাকা থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ লাইনে জমা দেওয়া হয়েছে।

নাশকতা ঠেকাতেও তৎপরতা

পল্লবী এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ঝটিকা মিছিল ঠেকাতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তার ভাষ্য, গত জুলাইয়ে একটি ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন সময় মিছিলের চেষ্টা করলে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

থানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি পেট্রোল বোমা ও একটি চায়না অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তালিকাভুক্ত অপরাধীদের মধ্যে প্রায় ২০ জন, ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের ১৭ সদস্য, নিয়মিত মামলায় ২৫১ জন এবং ওয়ারেন্টভুক্ত ৯২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৬ ঘণ্টায় ‘রামিসা হত্যা’ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন

পল্লবী থানা পুলিশের সাম্প্রতিক সাফল্যের মধ্যে আলোচনায় এসেছে চাঞ্চল্যকর ‘রামিসা হত্যা’ মামলা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে।

এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের জুনে ডিএমপির শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হন পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির।

তিনি বলেন, ‘মে মাসে আমাদের জন্য রামিসা হত্যা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার এবং দ্রুত সময়ে মামলাটির তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করি।’

৭-৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় ১৫০ পুলিশ

পল্লবী এলাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিপরীতে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। এর সঙ্গে রয়েছে পুলিশের যানবাহনের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা। এই জনবল দিয়েই কালশী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো গেলে পুলিশের সেবার মান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওসি হাসান বাসির বলেন, ‘এত অল্পসংখ্যক লোক দিয়ে এত লোকের পুরোপুরি নিরাপত্তা দেওয়াটা একটু কঠিন। তারপরও আমাদের স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়েই আমরা মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিশেষ করে জনবল এবং যানবাহনের সংখ্যা—লজিস্টিক সাপোর্টটা বাড়লে জনগণের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

মেহেদী হাসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর