ঢাকা: ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
শুনানি শেষে আইনজীবী শাহীনুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ইশতিয়াকের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রুল জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২৬ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘ডিবির হেফাজতে এই যুবকের মৃত্যুর আগে আটকের সময় কী ঘটেছিল, এমন ভিডিও ফেসবুকে’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করে। রিটে ঘটনার বিচারিক তদন্ত এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন বিকেলে ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদকে আটক করে ডিবি পুলিশ। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর চিনিকলে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে, মৃত্যুর আগে ২১ জুন সকালে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান বাদী হয়ে ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় দাবি করা হয়, তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেফতারের সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।