Wednesday 03 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: নিজেদের নির্দোষ দাবি সোহেল ও স্বপ্নার

স্টাফ করেসপন্ডেট
৩ জুন ২০২৬ ১২:৩৫ | আপডেট: ৩ জুন ২০২৬ ১৪:২২

রামিসা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আদালতে আনা হচ্ছে।

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শুরুতে আদালত মামলার সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসামিদের সামনে পড়ে শোনান।

এ সময় বিচারক সোহেল রানার কাছে তার কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নির্দোষ এবং খালাস চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী স্বপ্না নির্দোষ। তবে বিচারক তাকে নিজের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দিলে সোহেল পুনরায় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে স্বপ্না আক্তারের বক্তব্য শুনতে চাইলে তিনি আদালতকে জানান, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। আদালত তার কাছে ঘটনার সময় দরজা না খোলার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আছে কি না জানতে চান। বিচারক সতর্ক করে বলেন, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে একই মামলায় তারও সমান দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে। জবাবে স্বপ্না আবারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

আসামিদের বক্তব্য রেকর্ড শেষে আদালত মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিন ধার্য করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী, পুলিশ সদস্য, তদন্ত কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমউল্ল্যাহ।

আদালত সূত্র জানায়, সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে শুনানির জন্য তাদের এজলাসে তোলা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে রামিসা আক্তার নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান স্বপ্না। কিছু সময় পর শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পর ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ১ জুন আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর