Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চট্টগ্রামে দাম না পেয়ে চামড়া রাস্তায় ফেলে গেলেন ব্যবসায়ীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ মে ২০২৬ ০৯:৪২ | আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১২:৩৮

– ছবি : সারাবাংলা

চট্টগ্রাম: জেলায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো সংকট আবারও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং আড়তদারদের অনীহার কারণে ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক স্থানে সড়কে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে বিবিরহাট ও আতুরার ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে গরুর শত শত চামড়া। এসব চামড়া থেকে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অনেক চামড়ায় ইতিমধ্যে ময়লা জমে নষ্ট হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির সামাল দিতে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাক এসব চামড়া অপসারণ করছে।

চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় ছোট-বড় ২২৫টি আড়তে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। নগরী ও বিশেষ করে উপজেলা থেকে মৌসুমী সংগ্রহকারীরা কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করে সেখানে নিয়ে আসেন। আড়তদারের প্রতিনিধিরাও নগরীর বিভিন্ন স্পটে গিয়ে মৌসুমী সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন।

বিজ্ঞাপন

ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী নুরুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, আড়তদারেরা সিন্ডিকেট করে ৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি দর তারা দিতে আগ্রহী ছিলেন না। সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা পর্যন্ত দর উঠেছিল বড় গরুর চামড়া। অথচ আমি একেকটি বড় গরুর চামড়া কিনেছিলেন ৪০০-৬০০ টাকায়। শেষ পর্যন্ত দাম না পেয়ে আসার মত অনেকে চামড়া বিক্রি না করে ডাস্টবিনে ফেলে দেন।

– ছবি : সারাবাংলা

আতুড়ার ডিপো এলাকায় চামড়া ডাম্পিংয়ে নিয়োজিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবু তাহের সিদ্দিকী জানান, সকালে বর্জ্যের সাথে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পচন শুরু হওয়া বিপুল পরিমাণ চামড়া ডাম্পিং করছেন তারা। কি পরিমাণ চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে তার পরিসংখ্যান নেই বলে জানান তিনি। তবে বেশ কয়েকটি ডাম্প ট্রাক ও ছোট আকারের ময়লাবাহী ভ্যান ভর্তি পচা চামড়া ফেলে দেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন জানান, তাদের লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী ৪ লাখ পিস চমড়া সংগ্রহ হয়েছে। বিশেষ করে নগরীতে দেড় লাখ এবং উপজেলা পর্যায়ে আরো আড়াই লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। যেসময় মৌসুমি ব্যবসায়ী ব্যবসা না বুঝে সরকার নির্ধারিত দাম না বুঝে ব্যবসা এসেছেন এবং বেশি দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে দাম ধরে বসে ছিলেন তাদের কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরু ও মহিষের কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিটি চামড়ায় ১ হাজার টাকারও বেশি।

বাস্তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যানারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব, লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের সংকট এবং আড়তদারদের নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো।

সারাবাংলা/এসএন/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর