Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যারা দেবেন জান-মালের সুরক্ষা, তাদেরই কাটছে আতঙ্কে দিন!

আশরাফুল ইসলাম জয়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১২

কামারখন্দ থানার জরাজীর্ণ ভবন। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: জেলার কামারখন্দ থানার জরাজীর্ণ ভবন এখন শুধু পুলিশের জন্য নয়, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত ভবনটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ভবনের কাঠামোগত অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলছে দাফতরিক কার্যক্রম।

১৯৮০ সালে নির্মিত এই থানা ভবনটি সময়ের সঙ্গে জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল এবং খসে পড়া পলেস্তারা চোখে পড়ার মতো। থানায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা সেবাপ্রার্থীরাও আতঙ্কের মধ্যেই সময় কাটান।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা শ‌রিফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘কামারখন্দ থানা ভবনের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় এটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভবনের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। থানায় মামলা, অভিযোগ কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে। এ অবস্থায় বড় কোনো অংশ ধসে পড়লে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।’

স্থানীয়রা বলেন, থানার ভবনটি শুধু পুলিশের অফিস নয়, এটি সাধারণ মানুষের আইনি সেবা পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ থানায় আসেন। তাই ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. শ‌ফিকুর রহমান সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘থানার ভবনের অবস্থা বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায়, এটি অনেক পুরোনো। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। আমরা সাধারণ মানুষ থানায় সেবা নিতে এসে আতঙ্কে থাকি। দ্রুত ভবনটি মেরামত করা দরকার।’

তি‌নি আ‌রও ব‌লেন, ‘পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু তাদের নিজেদের কর্মস্থল যদি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, তাহলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

কামারখন্দ থানায় বর্তমানে একজন অফিসার ইনচার্জ (ওসি), আট জন এসআই, সাত জন এএসআই ও ৩৯ জন কনস্টেবলসহ মোট ৫৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মানুষের জানমাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমিত জনবল নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনের কারণে তাদেরও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভবনটি অনেক পুরোনো। বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার সমস্যা রয়েছে। আমরা ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে পারি। দ্রুত মেরামত বা প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে আমাদের কাজের পরিবেশ অনেক নিরাপদ হবে।’

আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কর্মস্থলের ভবন যদি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, তাহলে সবসময় একটা আতঙ্ক কাজ করে। বিশেষ করে ছাদ বা দেয়াল থেকে কোনো অংশ খসে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার।’

পুলিশ সদস্যদের আবাসন সংকটও রয়েছে। ৫৫ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাকিদের থানার বাইরে থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। দায়িত্বের প্রয়োজনে অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে থানায় ফিরতে হলেও পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

থানার ভবন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনটির দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত মেরামত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পুলিশ সদস্য ও সেবাপ্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার) সারাবাংলাকে বলেন, ‘কামারখন্দ থানার ভবনটি পুরোনো। ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের বিষয়ে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে পলেস্তারা বা দেয়াল মেরামত করলেই হবে না। ভবনটির সার্বিক কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। ভবনটি যদি সংস্কারের অনুপযোগী হয়ে থাকে, তাহলে নতুন থানা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সচেতন মহল বলছে, একটি থানার নিরাপদ ভবন নিশ্চিত করা মানে শুধু পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপদে আইনি সেবা পাওয়ার বিষয়টিও। তাই কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির অপেক্ষায় না থেকে কামারখন্দ থানার জরাজীর্ণ ভবনটির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর