রাজবাড়ী: রাজবাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত বিন্দুপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বসতবাড়ি ও আশপাশে পানি জমে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিন্দুপাড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতবাড়ির আঙিনা ও চলাচলের রাস্তা পানিতে ডুবে রয়েছে। দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি পচে কালো হয়ে গেছে। পাশাপাশি পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে পরিবেশও নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার প্রধান চলাচলের রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই পানির মধ্য দিয়েই বাধ্য হয়ে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

পানিবন্দি এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে অনেক পরিবারের ঘরের আঙিনা ও চলাচলের রাস্তায় পানি জমে থাকায় শিশু, নারী ও বয়স্কদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পানিবন্দি থাকা সেলিনা নামের এক গৃহবধূ এসে তাদের দুভোর্গের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় আমাদের এখানে। পানি বের হতে পারে না। বের হতে না পারায় পানি পচে কালো হয়ে গেছে। সেই সাথে দুর্গন্ধ, প্রচুর পরিমানে মশা, পানিতে পোকা, পা-হাতে ঘাঁ হয়ে গেছে। টিউবওয়েল পানিও গন্ধ খাওয়া যায় না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমরা চাই এই পানিটা বের করে দিক।’
পানিবন্দি সাহেলা বেগম, শিক্ষার্থী শিউলী, সামসুল হক বুদ্ধিসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘বাড়িসহ এই রাস্তায় পানি হওয়াতে চলাচল খুবই সমস্যা হচ্ছে। প্রায় ৪ বছর ধরে আমরা ভুগতেছি। আমরা সাবেক মেয়রদেরকে বলেছি সমস্যার কথা কেও আসেনি আমাদের এই সমস্যা সমাধান করতে। এই পানি দীর্ঘদিন জমে থাকায় পঁচে দুর্ঘন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের জ্বর হয়েছে, রান্না করতে পারছি না, ল্যাকটিনে যেতে পারছি না,বাচ্চাদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে, খাওয়া দাওয়া সমস্যা হচ্ছে। টিউবওয়েলের পানি খেতে পারছি না দুর্গন্ধ, চুলাতে পানি, ঘুমাতে পারি না। আমরা নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছি। আমরা তো পৌরসভার বাসিন্দা। সাবেক মেয়রদের জানিয়েও কিছুই হয় নাই। আমরা আর কতদিন ভুগবো..!’
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পৌরসভার প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। তবে অর্ধশতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে- বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।’