Friday 12 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১৩ জুন লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জুন ২০২৬ ০৮:৪৩

চট্টগ্রাম: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ১৩ জুন ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার সংকট জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহানগরী সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগরী আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মহানগরী সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস, এলডিপির মহানগরী সভাপতি সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহানগরী সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, খেলাফত মজলিসের মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল হক ও জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা মুবিনুল হক, লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মো. আফসার উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

সারাবাংলা/এসএন/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর