Friday 12 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কুঁড়েঘরে বাস করা পরিবারের ভাগ্য বদল, প্রশংসায় ভাসছেন ২ ইতালিয়ান

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ জুন ২০২৬ ২১:৫৩

পরিবারটির নতুন পাওয়া বাড়ি।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার সদর উপজেলার এক সময়ের কুঁড়েঘরের বাসিন্দা ভূমিহীন ও হতদরিদ্র মৌলুদা খাতুন ও তার স্বামী গোলাম মোস্তফার জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। মাছের ঘেরের পাশে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বছরের পর বছর মানবেতর জীবন কাটানো এই পরিবার এখন পেয়েছে একটি পাকা ও আধুনিক বাড়ি, যার মাধ্যমে বদলে গেছে তাদের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা।

ঘর নির্মাণের এই উদ্যোগ নিয়েছেন ইতালির মানবহিতৈষী ভিনসেনজো ফালকোনে এনজো ও গ্রাজিয়েল্লা মেলানো লাওরা। তাদের অর্থায়ন ও উদ্যোগে নির্মিত এই বাড়ি পেয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন পরিবারটি।

বর্ষায় ঘরের ভেতরে পানি চুঁইয়ে পড়া, শীতে কাঁপতে কাঁপতে রাত কাটানো এবং ঝড়ের সময় আতঙ্কে দিন পার করা—এমন বাস্তবতায় দিন কাটাতেন মৌলুদা খাতুনের পরিবার। জমি না থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্নও ছিল প্রায় অসম্ভব।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত এনজো ও লাওরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে আসছেন। তাদের প্রতিষ্ঠিত সংস্থার মাধ্যমে দেশের বহু প্রান্তিক পরিবার উপকৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি তারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পারকুখরালি গ্রামের এই পরিবারের দুর্দশার খবর পান। পরে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় জমি ক্রয় করে সেখানে একটি আধুনিক বাড়ি নির্মাণ করা হয়।

নতুন বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি শয়নকক্ষ, একটি রিডিং রুম, ড্রয়িং ও ডাইনিং স্পেস, আধুনিক বাথরুম এবং রান্নাঘর। পরিবারের বসবাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। জমি ক্রয় ও ঘর নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫১ টাকা।

বাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ, কনসালটেন্ট মো. আকতারুল আলম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. নাঈমুজ্জামান এবং হিসাবরক্ষক মীর মাহমুদুর রহমান।

নতুন ঘরের চাবি হাতে নিয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মৌলুদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কোনো জমি ছিল না, কোনো নিরাপদ আশ্রয়ও ছিল না। আজ মনে হচ্ছে আমরা নতুন জীবন পেলাম। যারা আমাদের এই ঘর দিয়েছেন, তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।’

এদিকে, এনজো ও লাওরার অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন সমাজকর্মী ও সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধু একটি বাড়ি নির্মাণ নয়, বরং একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ফিরে পাওয়ার ঘটনা। তাদের ভাষায়, অনেকেই সাহায্য করেন, কিন্তু মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মতো কাজ খুব কম মানুষই করেন।

ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ বলেন, একটি পরিবারের মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নিশ্চিত করা শুধু দান নয়, এটি মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কাজ। এনজো ও লাওরা দীর্ঘদিন ধরে সেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর