ঢাকা: দেশে চলমান ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সিলেট ও হবিগঞ্জে বিপৎসীমার উপরে পানি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন নদ-নদীগুলোর মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং হবিগঞ্জের বাপ্পা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওইসব এলাকার নিচু অঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বাভাস ও আগামী দিনের পরিস্থিতি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা ও সাঙ্গু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিভিন্ন অববাহিকার চিত্র
উত্তর-পূর্বাঞ্চল: সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকার পানি সমতল হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা থাকলেও তা এখনো বিপৎসীমার ওপর রয়েছে। আগামী তিন দিন এই উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা: এই অববাহিকার নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী পাঁচ দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আপাতত এই পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা: এই নদ-নদীগুলোর পানি সমতল কিছুটা কমছে, যা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী নিচু অঞ্চলে বসবাসরতদের জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিতভাবে পাউবোর দৈনিক বন্যা বুলেটিন অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।