ঢাকা: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুইদিন নদীটির পানি আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় কুশিয়ারা-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণাধীন নদী স্টেশনগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি কমলেও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দুইদিন নদীটির পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরবর্তী এক দিন পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই সময়ে সিলেট জেলার কুশিয়ারা-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’
অন্যান্য প্রধান নদ-নদীর ক্ষেত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কমেছে। আগামী দুইদিন পানি আরও কমার পর পরবর্তী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী তিনদিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুইদিন বাড়তে পারে, যা বিপৎসীমার নিচেই অবস্থান করবে। দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমেছে এবং তিস্তার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এসব নদীর পানি আগামী একদিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুইদিন বাড়তে পারে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরি ও সেলোনিয়া নদীর পানি বেড়েছে, তবে গোমতী, ফেনী ও হালদা নদীর পানি অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল রয়েছে। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, গোমতী, মুহুরি, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানি আগামী একদিন বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুইদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিনদিন কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি নিয়ে জানানো হয়, উত্তর উড়িষ্যা, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এটি ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হতে পারে।