ঢাকা: চট্টগ্রাম বিভাগে সাম্প্রতিক বন্যার মূল কারণ অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশে বছরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও গত এক সপ্তাহে শুধু চট্টগ্রামেই ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে বান্দরবানে ১ হাজার ১০২ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৮৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ফলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, গত ১২ জুলাই সচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে সঙ্গে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চলমান প্রকল্পগুলোর কারণে কোথাও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়েছে। পতেঙ্গা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এতে ভবিষ্যতে নগরীর জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, কক্সবাজারের কয়েকটি স্থানে ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত পুরোনো বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ভেঙেছে, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় লোকজন বাঁধ কেটে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও স্লুইসগেট দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘১৪ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলী, সুরমা নদীর ছাতক, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার সামান্য ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সব নদীর পানিই ধীরে ধীরে কমছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১ হাজার ৫০০টির বেশি প্রকল্প প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টির কাজ শেষ হয়েছে এবং এক হাজারটির কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ৬ লাখ জিওব্যাগ ও অতিরিক্ত সিনথেটিক জিওব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সামনে আবার ভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যা দেখা দিলেও ভাঙনরোধ ও নদী তীর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি মন্ত্রী আমিনুর রশিদ, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন উপস্থিত ছিলেন।